উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক : দেশজুড়ে নিট (NEET) পরীক্ষার অনিয়ম ও শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির প্রতিবাদে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবিতে চলমান আন্দোলনের মুখে অবশেষে বরফ গলল। সোমবার ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) প্রস্তাবিত সংসদ ভবন অভিযানের মাঝেই সরকারের তরফ থেকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে দাবি সিজেপি-র। দলের দুই শীর্ষ প্রতিনিধিকে আলোচনার জন্য সময় দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা। অন্যদিকে, চিকিৎসাধীন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকও এই সংসদ অভিযানে শামিল হতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে সাময়িক ছুটির আবেদন জানিয়েছেন।
সরকারের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনও বিবৃতি না দেওয়া হলেও, সিজেপি-র প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং অন্যতম মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডার সঙ্গে দেখা করতে রওনা হয়েছেন। সমাজমাধ্যমে সৌরভ লিখেছেন, ‘‘আমি এবং আশুতোষ রাঙ্কা ককরোচ জনতা পার্টির তরফে জেপি নাড্ডার সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছি। সকালে সরকার আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। আমাদের দাবি খুব স্পষ্ট। তরুণ প্রজন্ম প্রচুর সংখ্যায় জমায়েত করেছে।” সোমবার দিল্লির এই সংসদ ভবন অভিযানে প্রায় ১০ হাজার মানুষের জমায়েত হয়।
গত ২৮ জুন থেকে যন্তর মন্তরে লাগাতার অনশনে বসার পর, গত শনিবার অনশনের ২১তম দিনে সোনম ওয়াংচুককে সাদা পোশাকের পুলিশ উদ্ধার করে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করে। তাঁকে বেআইনিভাবে আটকে রাখার অভিযোগ তুলে সোমবার সকালে হাসপাতালের ডিরেক্টরকে একটি চিঠি দেন ওয়াংচুক। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, “আমি আজ খুব ভাল আছি। আমার স্বাস্থ্যের সূচকগুলিও স্বাভাবিক। সাময়িক ভাবে হলেও দয়া করে আমাকে হাসপাতাল ছাড়ার অনুমতি দিন, যাতে আমি সংসদ ভবন অভিযানে যোগ দিতে পারি।”
সমাজমাধ্যমে এই চিঠির ছবি পোস্ট করে প্রশ্ন তোলা হয়, ওয়াংচুক সম্পূর্ণ সুস্থ এবং হাসপাতাল যদি দাবি করে তাঁকে আটকে রাখা হয়নি, তবে কেন এই নিষেধাজ্ঞা? উল্লেখ্য, সোনমকে সফদরজং থেকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের আর্জি জানিয়ে দিল্লি হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমো।
এদিকে, সোনম ওয়াংচুকের অনুরোধ সাড় দিয়ে অবশেষে অনশন তুলে নিয়েছেন সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে। তাঁর পাশাপাশি যন্তর মন্তরের সামনে বিগত ২৩ দিন ধরে অনশনরত আরও তিন ছাত্রনেতাও সোমবার তাঁদের উপবাস কর্মসূচিতে ইতি টেনেছেন।

