উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: জামিন পেলেন সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা (CJP leaders launched) । দিল্লির এক বিশেষ এগজিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত বুধবার ককরোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janta Social gathering) বা সিজেপি-র এই দুই নেতার কারামুক্তির নির্দেশ জারি করেছে। সাত দিন বিচারবিভাগীয় হেপাজতে কাটানোর পর অবশেষে তাদের মুক্তির পথ সুগম হয়। যন্তর মন্তর চত্ত্বরে অনধিকার প্রবেশ এবং নিয়মভঙ্গের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এই মামলার শুনানিতে পুলিশ তিন দিনের অতিরিক্ত হেপাজতের আর্জি জানালেও, বিচারক তা খারিজ করে দেন। আদালতে প্রয়োজনীয় জামিনদার বা শিউরিটি জমা দেওয়ার পর এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এই নির্দেশ কার্যকর করা হয়।
আদালতের সামনে দাঁড়িয়ে দুই সিজেপি নেতাই শান্তিভঙ্গ না করার মর্মে একটি মুচলেকা ও লিখিত প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আদালতে পেশ করা তাদের সেই বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, বিচারব্যবস্থার প্রতি তাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। পাশাপাশি, শান্তি, শৃঙ্খলা এবং জননিরাপত্তার প্রতি নিজেদের দায়বদ্ধতার কথা পুনরায় ব্যক্ত করে তারা জানিয়েছেন যে, পরবর্তী সময়ে আইনসম্মতভাবে এই চত্ত্বরের ডিনোটিফিকেশন বা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত তারা যন্তর মন্তরে কোনো রকম আন্দোলনের ডাক দেবেন না। এছাড়া দেশের সংবিধানের গণ্ডির মধ্যেই সমস্ত রকমের প্রতিবাদ কর্মসূচি সীমাবদ্ধ রাখা হবে বলেও তারা যৌথভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ১৩ অক্টোবর এই দুই নেতাকে আটক করা হয়েছিল। প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে বাদ পড়া এবং তালাবন্ধ থাকা যন্তর মন্তরের গেট টপকে ভেতরে প্রবেশের অভিযোগ উঠেছিল তাদের বিরুদ্ধে। ঘটনার পরদিনই তাদের পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেপাজতে পাঠানো হয় এবং পরবর্তীতে গত ১৯ অক্টোবর সেই মেয়াদ আরও দু’দিন বাড়িয়ে বুধবার পর্যন্ত করা হয়েছিল। এদিকে এই আইনি লড়াই চলাকালীন বুধবারই দিল্লির হাইকোর্ট তাদের বিচারবিভাগীয় হেপাজতে হস্তক্ষেপে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল এবং ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে নির্দেশ দিয়েছিল। এদিন উচ্চ আদালত এও স্পষ্ট করে দেয় যে, তাদের কোনও ক্ষোভ বা অসন্তোষ থাকলে তারা উপযুক্ত আপিল আদালতেও যেতে পারেন। এই ঘটনার আইনি জল অনেক দূর গড়ালেও, এই সমগ্র স্পর্শকাতর মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে দিল্লি পুলিশ ইতিমধ্যেই এর তদন্তভার ক্রাইম ব্রাঞ্চের হাতে তুলে দিয়েছে।

