উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: লন্ডনের (London) বার্কবেক বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে গিয়ে এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়লেন ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত (CJI Surya Kant)। ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ল’ বিষয়ক এই অনুষ্ঠানের প্রশ্নোত্তর পর্বে ভারতের গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং বিচারপতির সাম্প্রতিক ‘আরশোলা’ সংক্রান্ত (Cockroach remarks) মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হয় তাঁকে। যদিও তখনই আয়োজকরা তা থামিয়ে দেন। কিন্তু এই ঘটনার নিন্দায় সরব হয়েছে ভারত। এই ঘটনাকে ‘অশালীন’ বলে উল্লেখ করেছে লন্ডনে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস।
গত ৪ জুন আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রশ্নোত্তর পর্বে এক ব্যক্তি ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভিন্নমতের প্রতি অসহিষ্ণুতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, উপস্থিত কয়েকজন দর্শক দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানালে অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ওই প্রশ্ন এড়িয়ে যান। তিনি জানান, আলোচনার বিষয়বস্তু শুধুমাত্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আন্তর্জাতিক আইনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৫ মে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি সূর্য কান্তের করা একটি মন্তব্যকে ঘিরে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও তথ্যের অধিকার (RTI) কর্মীদের একাংশকে তিনি ‘আরশোলা’ বা ‘পরজীবী’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন। যদিও পরে জানানো হয়, তাঁর নিশানায় ছিল মূলত ভুয়া ডিগ্রিধারী ব্যক্তিরা। তবে এই মন্তব্য দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে এবং ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) নামে একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক গোষ্ঠী গড়ে ওঠে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে লন্ডনে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানায়, মতপার্থক্য গণতান্ত্রিক সমাজের অঙ্গ হলেও, প্রতিবাদ জানানোর পদ্ধতিটি শিষ্টাচারপূর্ণ হওয়া বাঞ্ছনীয়। তারা এই ধরণের বিশৃঙ্খলাকে অনভিপ্রেত ও অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেছে।
অন্যদিকে, এই বিতর্ককে হাতিয়ার করে দেশের বেকারত্ব ও শিক্ষাখাতের দুর্নীতি নিয়ে সরব হয়েছে বিভিন্ন মহল। আজ, ৬ জুন নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এক বড়সড়ো প্রতিবাদ কর্মসূচি করেছে ওই গোষ্ঠী। তবে লন্ডনের এই ঘটনা যে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির উত্তাপকেও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।
