উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনের পুজো মণ্ডপে (Chorebagan Tragedy) ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঘটনাস্থল ঘুরে দেখলেন বিশেষ তদন্তকারী দলের (সিট) প্রধান তথা অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতী। এদিন সন্ধ্যা ছ’টা বেজে পঞ্চাশ মিনিটে আইপিএস জাভেদ শামিম-সহ তদন্তকারী দলের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে মণ্ডপ চত্বরে উপস্থিত হন তাঁরা। অন্দরমহল থেকে শুরু করে প্রস্থান পথ— সবকিছুর মাপজোখ ও পরিস্থিতি সরেজমিন খতিয়ে দেখে সিট। ঘটনার সময় যেমন আলোর বন্দোবস্ত ছিল, ঠিক তেমনই আবছা আলো রেখে পুরো এলাকাটি খতিয়ে দেখা হয়, যাতে অভিযোগ অনুযায়ী কম আলোর বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায়।
তদন্ত শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সিট (SIT) প্রধান স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, প্রতিমা নিরঞ্জনে প্রশাসনের তরফ থেকে আর কোনও বাধা নেই। তবে একটি বিশেষ শর্ত জুড়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, ঘটনার সময়ের গঠন ও সজ্জা বজায় রাখতে মণ্ডপটি হুবহু একই রকম রাখতে হবে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে বিচারপতি জানান, মণ্ডপের প্রবেশ ও প্রস্থান পথ অত্যন্ত সরু ছিল, যার ফলে অতিরিক্ত জনস্রোত ঢুকে পড়ার জেরে বড়সড়ো বিপত্তি ঘটে থাকতে পারে। এছাড়া মূল মণ্ডপের ভিতরে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি, বরং দুর্ঘটনাটি ঘটেছে প্রস্থান গেটের ঠিক বাইরে। মণ্ডপ নির্মাণকারী শিল্পী থেকে শুরু করে ব্যবস্থাপনা ও পুজোর আয়োজক কমিটির সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি ব্যক্তিকে জেরা করার কথা জানিয়েছে তদন্তকারী দল। কলকাতা পুলিশ এবং পুরসভার ভূমিকাও এই সামগ্রিক তদন্তের আতশকাচের নীচে থাকছে বলে সিট সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ভিড়ের মধ্যে “মণ্ডপ ভেঙে পড়ছে” মর্মে মাইকে যে ভুয়ো ঘোষণা বা গুজব ছড়িয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়েও তৎপর হয়েছে তদন্তকারীরা। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই নদীয়া জেলা থেকে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে। মণ্ডপের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিসি ক্যামেরাগুলির ফুটেজ এবং সেদিনকার তথ্য প্রমাণাদি খতিয়ে দেখে শীঘ্রই পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করা হবে। তবে শর্তসাপেক্ষে প্রতিমা নিরঞ্জনের ছাড়পত্র মিললেও অপরাধের প্রমাণ সুরক্ষার্থে প্যান্ডেলের কাঠামো অপরিবর্তিত রেখেই সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

