Chorebagan tragedy | চোরবাগান বিপর্যয়: কলকাতার বাকি পুজো মণ্ডপগুলির নিরাপত্তায় কড়া নজর প্রশাসনের, বিশেষ দল গঠন মুখ্যমন্ত্রীর

ব্লগ/BLOG
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: কলকাতার চোরবাগান (Chorebagan tragedy) এলাকার একটি পুজো মণ্ডপে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক দুর্ঘটনার জেরে রাজ্যজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। উৎসবের (Durga Puja 2026) আনন্দ ম্লান করে দেওয়া এই বিপর্যয়ের পর থেকেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। কলকাতার বাকি জনপ্রিয় পুজো মণ্ডপগুলির নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অবিলম্বে খতিয়ে দেখতে শনিবার রাতেই একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ পরিদর্শনকারী দল গঠন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের সচিব রাজেশ সিংহ, দমকলের ডিজি অনুজ শর্মা এবং স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের এডিজি জাভেদ শামিমের কাঁধে এই বিশেষ দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। পুলিশি সহযোগিতায় এই দলটি শহরের বিভিন্ন মণ্ডপ ঘুরে তাদের প্রাথমিক রিপোর্ট সরাসরি রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষের কাছে জমা দেবে এবং তাদের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলতে হবে পুজো কমিটিগুলিকে।

দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই শনিবার গভীর রাতে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ছুটে যান মুখ্যমন্ত্রী এবং আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি, ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর তিনি জানান যে তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার আগে এই মুহূর্তে সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তবে প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে জানা গিয়েছে, ভিড়ের মাঝে প্রাইভেট সিকিউরিটির বাঁশির আওয়াজ থেকেই হুড়োহুড়ি ও বিশৃঙ্খলার সূত্রপাত হয়েছিল। ফরেনসিক দল এবং পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল ঘিরে রেখে ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান শুরু করেছে। দায়িত্বে থাকা ক্লাব কর্তৃপক্ষ এবং বেশ কয়েকজন বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আটক করা হয়েছে।

শোকস্তব্ধ এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে যে, পূর্বের সরকারের আমলের মতো কোনো ঘটনা বা কার্নিভালের ঘটনার সঙ্গে এর তুলনা টানা বা এড়িয়ে যাওয়ার অবকাশ নেই। থিম পুজো মণ্ডপগুলির ভেতরে অতিরিক্ত অন্ধকার বা অসঙ্গতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী সতর্কবার্তা দিয়েছেন যে, প্রয়োজনে শুধু পুরোহিত দিয়ে পুজো ও সংকল্প সেরে দর্শনার্থীদের জন্য বাইরে এলইডি স্ক্রিনের ব্যবস্থা করতে হবে।

এই দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা এবং পরিবারের একজনের জন্য গ্রুপ-ডি পদে চাকরির কথা ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি, আহতদের সম্পূর্ণ চিকিৎসার খরচের পাশাপাশি ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও নিহতদের পরিবারকে দুই লক্ষ টাকা এবং আহতদের জন্য পঞ্চাশ হাজার টাকা সাহায্য দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। অনভিপ্রেত এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে একটি টোল-ফ্রি হেল্পলাইন নম্বর ১৮০০৩৪৫৫৬৭৮ চালু করা হয়েছে এবং আগামী কয়েকদিন পুজোর দিনগুলিতে সমস্ত পুজো কমিটিকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *