পূর্ব বর্ধমান: কলকাতার চোরবাগান (Chorbagan Stampede) সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৯ জন পুণ্যার্থী। এই নিহতদের তালিকায় রয়েছেন পূর্ব বর্ধমানের মাধবডিহি থানার বীরপুর গ্রামের এক মা ও তাঁর নাবালক ছেলে—টগর বেজ (৪২) এবং সন্দীপ বেজ (১৩)। মহানবমীর দুপুরে সেই শোকার্ত পরিবারকে সমবেদনা জানাতে এবং পাশে থাকার বার্তা দিতে সশরীরে বীরপুর গ্রামের মৃতদের বাড়িতে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মহাষ্টমীর মর্মান্তিক সেই দুর্ঘটনায় ভাগ্যের জোরে প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন টগর বেজের মেয়ে আগমনী এবং তাঁর স্বামী সঞ্জয় বেজ। এদিন দুপুর বারোটার কিছু আগে মাধবডিহির বীরপুর গ্রামে বেজ পরিবারে উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী। সঙ্গে ছিলেন রায়নার বিধায়ক সুভাষ পাত্র, প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র এবং জেলাশাসক শ্বেতা আগরওয়াল।
মুখ্যমন্ত্রী শোকার্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রায় ১৫ মিনিট কথা বলেন এবং মৃতদের ছবিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানান। এরপর রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নিহত মা ও ছেলের পরিবারের জন্য মোট ৫০ লক্ষ টাকা (প্রত্যেক পরিবার পিছু ২৫ লক্ষ টাকা) আর্থিক সহায়তার চেক সঞ্জয় বেজের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি, মৃত টগরের মেয়েকে উপযুক্ত চাকরি দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দেন মুখ্যমন্ত্রী।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে চোরবাগানের এই হৃদয়বিদারক ঘটনা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “যাঁরা চলে গেছেন, তাঁদের তো আমরা ফিরিয়ে দিতে পারব না। কিন্তু তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং পরবর্তী দায়িত্ব পালন করা আমাদের প্রধান কর্তব্য। অন্য সরকার করেনি বলে আমরা করব না, তা হতে পারে না। চোরবাগানের ঘটনার তদন্তে প্রাথমিকভা্বেই মনে হচ্ছে, মাইকের ভুল অ্যানাউসমেন্টই মানুষের মধ্যে প্যানিক তৈরি করেছিল।”
একই সঙ্গে তিনি পূর্ববর্তী সরকারের আমলের বিভিন্ন দুর্ঘটনা (যেমন ২০২৫ সালে কলকাতায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু বা দার্জিলিংয়ের নাগরাকাটায় হড়পা বান) এবং সেই সময়কার কার্নিভাল আয়োজনের প্রসঙ্গ টেনে বর্তমান প্রশাসনের সংবেদনশীলতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, চোরবাগান দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির বেদনার প্রতি সম্মান জানিয়েই এ বছর রাজ্যজুড়ে শুধুমাত্র ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালিত হচ্ছে, সমস্ত জাঁকজমক ও আনন্দ উৎসব থেকে বিরত রয়েছে প্রশাসন।
উল্লেখ্য, চোরবাগানের ওই দুর্ঘটনায় হুগলির আরামবাগের বালিয়া গ্রামের বাসিন্দা টগরের ভাইয়ের স্ত্রী পিয়ালী প্রামাণিকও প্রাণ হারিয়েছেন। মাধবডিহির বীরপুর গ্রামের কর্মসূচি সেরে মুখ্যমন্ত্রী এরপর পিয়ালীর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে আরামবাগের বালিয়া গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
মৃত টগর বেজের স্বামী সঞ্জয় বেজ জানান, স্ত্রী, ছেলে ও আত্মীয়স্বজন মিলিয়ে মোট ৯ জনের একটি দল কলকাতা পুজো দেখতে গিয়ে এই বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল। স্ত্রী ও একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে সর্বস্বান্ত সঞ্জয়বাবু বলেন, “পুজোর এই ব্যস্ততার মাঝেও মুখ্যমন্ত্রী নিজে আমাদের বাড়িতে আসবেন এবং পাশে দাঁড়াবেন, তা আমাদের কাছে সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত ছিল। উনি আমাদের হাতে ৫০ লক্ষ টাকার চেক তুলে দিয়েছেন এবং মেয়ের চাকরির আশ্বাস দিয়েছেন।”

