মনজুর আলম, চোপড়া: কাপড়ের দোকানের আড়ালে চলছিল ফোটোকপির দোকান। সেখানেই ভুয়ো পরিচয়পত্র তৈরির অভিযোগে চোপড়ায় (Chopra) এক তরুণকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। রবিবার রাতে গ্রেপ্তারের পর সোমবার আমিরুল ইসলামকে ১০ দিনের পুলিশ হেপাজতের আবেদন জানিয়ে ইসলামপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়। সরকারি আইনজীবী সঞ্জয় ভাওয়াল বলেছেন,‘বিচারক ধৃতকে ৫ দিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। ধৃতের কাছ থেকে বেশি কিছু নকল আধার, ভোটার এবং প্যান কার্ড পাওয়া গিয়েছে।’ যদিও অভিযুক্তের আইনজীবী ওয়াহেদুর রহমান বলেছেন,‘আমার মক্কেলকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে।’
চোপড়া থানা এলাকাতেই একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের ট্যাব কেনার টাকায় জালিয়াতি, স্কলারশিপ কাণ্ড থেকে শুরু করে একের পর এক সাইবার প্রতারণার অভিযোগ সামনে এসেছে। এবার ফের নকল পরিচয়পত্র তৈরির অভিযোগ উঠল সেই চোপড়াতেই।
ইসলামপুর পুলিশ জেলার সুপার রাকেশ সিংয়ের কথায়,‘আধার, প্যান কার্ড সহ বিভিন্ন নথি তৈরির কাজ করা হচ্ছিল। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনায় আর কে কে জড়িত এবং কতদিন ধরে এই কাজ চলছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চোপড়ার কলেজপাড়া এলাকায় আমিরুলের কাপড়ের দোকানের সঙ্গে থাকা একটি ফোটোকপির দোকানে ভুয়ো পরিচয়পত্র তৈরি হত বলে খবর আসে। সেই খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালান তদন্তকারীরা। তল্লাশিতে একটি ল্যাপটপ, ৩২ জিবি পেনড্রাইভ এবং বেশ কিছু সন্দেহভাজন নথি বাজেয়াপ্ত হয়। পুলিশ সূত্রে দাবি, নথিগুলির মধ্যে ৪৭টি আধার, ৫টি ভোটার ও ৫টি প্যান কার্ড রয়েছে। পাশাপাশি জমি সংক্রান্ত কিছু নথিও উদ্ধার হয়েছে।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, সফটওয়্যারের মাধ্যমে আসল নথির আদলে তথ্য, সরকারি সিল এবং স্বাক্ষর তৈরি করে নতুন পরিচয়পত্র বানানো হত। পরে টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে সেই নথি সরবরাহ করা হত। সরকারি প্রকল্প বা বিভিন্ন সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রেও ওই জাল নথি ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আমিরুল জাল নথি তৈরির কথা স্বীকার করেছেন। উদ্ধার হওয়া ল্যাপটপ ও পেনড্রাইভ ফরেন্সিক পরীক্ষায় পাঠানো হবে। তবে ধৃতের দাদা জাহাঙ্গির আলমের দাবি, তাঁর ভাই এ ধরনের কোনও কাজের সঙ্গে যুক্ত নন। তিনি কয়েক বছর ধরে ফিন্যান্স কোম্পানির ঋণের কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

