উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠের এই তীব্র গরমে রান্নাঘরে ঘেমে-নেয়ে একসা হয়ে কষিয়ে রান্না করা সহজ কথা নয়। ঘরের পাখার তলায় বসেও যেখানে স্বস্তি মেলে না, সেখানে উনুন বা গ্যাসের আগুনের আঁচে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা অত্যন্ত কষ্টকর। এই সমস্যারই দারুণ এক সমাধান হতে পারে ‘ভাপা’ রান্না। কোনো কষানোর ঝঞ্ঝাট ছাড়াই সমস্ত উপকরণ একসঙ্গে মাখিয়ে টিফিন কৌটোয় ভরে ভাপিয়ে নিলেই কেল্লাফতে! শুধু নুন, মিষ্টি আর ঝালের পরিমাপ ঠিক হলেই রান্না হবে দুর্দান্ত সুস্বাদু। এই মরসুমে বাজারে টাটকা কুমড়োশাক সহজেই মেলে। সেই শাকের সঙ্গে ছোট চিংড়ি মাছের যুগলবন্দিতে আজই ঘরে বানিয়ে ফেলুন ‘কুমড়োপাতা চিংড়ি ভাপা’।
সহজ এই পদের প্রয়োজনীয় উপকরণ এবং প্রণালী নিচে দেওয়া হলো:
প্রয়োজনীয় উপকরণ:
-
টাটকা কুমড়োপাতা: ৫-৬টি (মাঝারি আকারের)
-
ছোট চিংড়ি: ২৫০ গ্রাম
-
সর্ষে-পোস্ত বাটা: ১ টেবিল চামচ পোস্তবাটা ও ১ টেবিল চামচ সর্ষেবাটা (অথবা রেসিপি অনুযায়ী সর্ষে-পোস্ত বাটা)
-
নারকেলকোরা: ২ টেবিল চামচ
-
কাঁচালঙ্কাবাটা: ৫-৬টি
-
চেরা কাঁচালঙ্কা: ৩-৪টি
-
হলুদ গুঁড়ো: আধ চা-চামচ
-
সর্ষের তেল: ২-৩ টেবিল চামচ
-
নুন: স্বাদমতো
প্রণালী:
১. প্রথমে কুমড়োপাতাগুলো ভালো করে কুচিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিন। এরপর নুন দিয়ে পাতাগুলো অল্প ভাপিয়ে জল ঝরিয়ে রাখুন। ২. এবার একটি পাত্রে জল ঝরানো কুমড়োশাক, ছোট চিংড়ি মাছ, স্বাদমতো নুন, হলুদ গুঁড়ো, কাঁচালঙ্কাবাটা, সর্ষে-পোস্ত বাটা এবং নারকেলকোরা একসঙ্গে নিন। ৩. এর মধ্যে ২-৩ টেবিল চামচ খাঁটি সর্ষের তেল দিয়ে সমস্ত উপকরণ খুব ভালো করে হাত দিয়ে মাখিয়ে নিন। মনে রাখবেন, ভাপা রান্নায় সর্ষের তেল একটু বেশি দিলে তবেই আসল ঝাঁজ ও স্বাদ খোলে। ৪. সমস্ত মাখানো উপাদান একটি স্টিলের টিফিন কৌটোয় ভরে ওপর থেকে চেরা কাঁচালঙ্কা ছড়িয়ে ঢাকনা বন্ধ করে দিন। ৫. এবার একটি কড়াইতে জল গরম করে টিফিন কৌটোটি বসিয়ে মিনিট ১০-১৫ ভাপিয়ে নিলেই তৈরি গরম গরম ‘কুমড়োপাতা চিংড়ি ভাপা’।
দুপুরের মেনুতে ধোঁয়া ওঠা গরম ভাতের সঙ্গে এই পদ পরিবেশন করুন, গরমে তৃপ্তির খাওয়া দাওয়া জমে উঠবে।
