চ্যাংরাবান্ধা: রাজ্যে ক্ষমতার অলিন্দে পালাবদলের ঢেউ এবার এসে পৌঁছাল চ্যাংরাবান্ধা গ্রাম পঞ্চায়েতেও (Changrabandha Gram Panchayat)। মঙ্গলবার মেখলিগঞ্জের (Mekhliganj) বিডিও নরেশ রাজরাইয়ের কাছে গিয়ে নিজেদের পদত্যাগপত্র জমা দিলেন চ্যাংরাবান্ধা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ইলিয়াস রহমান ও উপপ্রধান স্বপ্না রায় বর্মন। বিডিও অফিস থেকে ইস্তফা দিয়ে বেরোনোর পথে কার্যত চোখের জলে ভাসতে দেখা গেল উপপ্রধান স্বপ্না রায় বর্মনকে। এই আকস্মিক ইস্তফাকে কেন্দ্র করে মেখলিগঞ্জের রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
এদিন বিডিও দপ্তরে প্রধান ও উপপ্রধান একসঙ্গেই হাজির হন। পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে উপপ্রধানকে পাশে নিয়ে প্রধান ইলিয়াস রহমান বলেন, “রাজ্যে বড় পরিবর্তনের পর আমার মনে হয়েছে বিজেপিকে আরও ভালো করে কাজ করতে দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া উচিত। জনগণের সুবিধার্থেই আমার এই ইস্তফা দেওয়া। তবে পদ ছাড়লেও সাধারণ পঞ্চায়েত সদস্য হিসেবে চ্যাংরাবান্ধাবাসীর (Changrabandha) কল্যাণে আমি সর্বদা কাজ করে যাব।” আগামী ২৪ তারিখ শুনানি বা হিয়ারিং না হওয়া পর্যন্ত বিডিও নরেশ রাজরাই তাঁকে প্রধানের দায়িত্ব সামলানোর কথা বলেছেন বলেও জানান ইলিয়াস রহমান।
এদিকে, চ্যাংরাবান্ধা গ্রাম পঞ্চায়েতের এই আকস্মিক ইস্তফার নেপথ্যে কোনো চাপ বা ভয়ভীতি কাজ করেছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে। কারণ, পূর্বে প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার সময় বিজেপির সমর্থন ইলিয়াস রহমানের পক্ষেই ছিল। তবে দলবদলের বাজারে কোনো চাপ সৃষ্টির তত্ত্ব উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “এই পদত্যাগ সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় হয়েছে। এখানে কোনো চাপ সৃষ্টির বিষয় নেই। যাঁরা নতুন দায়িত্বে আসবেন, আশা করি তাঁরা ভালো কাজ করবেন।”
রাজনৈতিক সমীকরণের দিক থেকে এই পঞ্চায়েতটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মোট ২২ সদস্যের চ্যাংরাবান্ধা গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূলের সদস্য সংখ্যা ১৮ এবং বিজেপির সদস্য মাত্র ৪ জন। এই বিশাল সাংগঠনিক ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও প্রধান ও উপপ্রধানের এই ইস্তফার পর সমীকরণ কোন দিকে ঘোরে, সেটাই এখন দেখার। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে কীভাবে এখানে নতুন বোর্ড গঠন করা হয়, সেদিকেই নজর মেখলিগঞ্জবাসীর।

