Changrabandha | চ্যাংরাবান্ধায় বাংলাদেশি মহিলা উদ্ধার, মানবপাচার ও দেহব্যবসায় বাধ্য করার অভিযোগ

ব্লগ/BLOG
Spread the love


চ্যাংরাবান্ধা: আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর শনিবার রাতে চ্যাংরাবান্ধার (Changrabandha) দক্ষিণপাড়া এলাকায় এক বাংলাদেশি মহিলাকে ঘোরাফেরা করতে দেখে উদ্ধার করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ওই মহিলা নিজেকে বাংলাদেশের রংপুর জেলার পীরগাছা উপজেলার বাসিন্দা বলে পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর দাবি, প্রায় চার বছর আগে দালালচক্রের মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারতে আসার পর তাঁকে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরিয়ে কাজ করতে বাধ্য করা হয় এবং একপর্যায়ে দেহব্যবসায় নামানো হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে চ্যাংরাবান্ধা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর দক্ষিণপাড়া এলাকায় এক মহিলাকে টোটো থেকে নেমে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। সন্দেহ হওয়ায় স্থানীয়রা তাঁর সঙ্গে কথা বলেন। তখনই তিনি বাংলাদেশি নাগরিক এবং বাড়ি ফিরতে চান বলে জানান। বিষয়টি জানার পর স্থানীয় বাসিন্দারা মেখলিগঞ্জ থানায় খবর দেন।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য অপর্ণা সেন সরকার। স্থানীয়রা ওই মহিলাকে খাবারও দেন। পরে মেখলিগঞ্জ (Mekhliganj) থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে যায়।

পুলিশের কাছে যাওয়ার আগে স্থানীয়দের ওই মহিলা জানান, তাঁর নাম পিয়া খাতুন এবং বাংলাদেশের (Bangladesh) রংপুর জেলার পীরগাছা উপজেলার দশগাঁও গ্রামে তাঁর বাড়ি। তাঁর দাবি অনুযায়ী, প্রায় চার বছর আগে জাকির মিয়া নামে এক ব্যক্তি তাঁকে গিতালদহ এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে নিয়ে আসেন। তাঁর অভিযোগ, ভারতে নিয়ে আসার পর তাঁকে বিভিন্ন ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয়।

পিয়া খাতুনের দাবি, বাবার চিকিৎসার জন্য তাঁকে ভারতে নিয়ে আসার কথা বলা হলেও তাঁর বাবা ফজল মিয়া কখনও ভারতে আসেননি এবং বাংলাদেশেই মারা যান। এরপর তাঁকে ভারতের বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গিয়ে জোর করে অনৈতিক কাজে যুক্ত করা হয় বলে অভিযোগ তাঁর।

ওই মহিলার বক্তব্য অনুযায়ী, পরবর্তীতে তাঁকে শিলিগুড়ি এবং দিনহাটার মতো এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। দিনহাটায় একটি খাবারের হোটেলে কয়েকদিন কাজও করেন তিনি। সেখান থেকে চ্যাংরাবান্ধা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়া সম্ভব বলে জানতে পেরে তিনি গাড়িচালকের সাহায্যে চ্যাংরাবান্ধায় পৌঁছন। তবে সেখানে এসে জানতে পারেন, আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এরপরই তাঁকে দক্ষিণপাড়া এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়।

স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য অপর্ণা সেন সরকার জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছন এবং পুলিশকে খবর দেন। ওই মহিলার সঙ্গে কথা বলে তাঁর ভারতে আসার ঘটনা এবং বিভিন্ন অভিযোগের কথা জানতে পারেন বলে জানান তিনি। পরে পুলিশ এসে তাঁকে নিয়ে যায়।

মেখলিগঞ্জ মহকুমা পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশি ওই মহিলাকে মেখলিগঞ্জ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। কীভাবে তিনি ভারতে প্রবেশ করেছিলেন, কোথায় কোথায় ছিলেন এবং তাঁর করা অভিযোগগুলির সত্যতা কী—সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। চ্যাংরাবান্ধা আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছে এভাবে এক বাংলাদেশি মহিলাকে উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একইসঙ্গে তাঁর করা মানবপাচার এবং জোর করে দেহব্যবসায় নামানোর অভিযোগ ঘিরেও শুরু হয়েছে নানা প্রশ্ন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *