Changrabandha | গরম আর লুপারের দাপটে উদ্বেগ চা চাষে

Changrabandha | গরম আর লুপারের দাপটে উদ্বেগ চা চাষে

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


চ্যাংরাবান্ধা: একা গরমে রক্ষে নেই, সঙ্গে লুপার দোসর! জোড়া ফলার সাঁড়াশি চাপে মেখলিগঞ্জের ক্ষুদ্র চা চাষিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ক্রমশ চওড়া হচ্ছে। একদিকে বৃষ্টির অভাবে চা বাগানের সবুজ পাতা লাল হয়ে যাচ্ছে। রীতিমতো নিয়মিত বাগানে জলসেচ করেও কোনও সুরাহা হচ্ছে না। অন্যদিকে লাল পোকা, লুপার সহ বিভিন্ন রোগপোকার আক্রমণে আতঙ্কিত চাষিদের একটা বড় অংশ।

ক্ষুদ্র চাষিদের অনেকেই বাজার থেকে ঋণ নিয়ে চাষের কাজ করেন। সেক্ষেত্রে গরমের সঙ্গে রোগপোকার হামলায় ক্ষতি বাড়ার আশঙ্কা। সানিয়াজান ক্ষুদ্র চা চাষি সমিতির সম্পাদক আশরাফুল আজাদের মন্তব্য, ‘ব্লকে প্রায় ১০ হাজারের বেশি ক্ষুদ্র চা চাষি আছেন। বাগান থেকে পাতা তুলে শুধু মেখলিগঞ্জে নয়, বাইরের জেলাতেও সরবরাহ করা হয়। কিন্তু শুকনো লালচে হয়ে যাওয়া পাতা কেউ কিনতে চান না। সঙ্গে লুপারের জন্য উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।’ তাঁর সংযোজন, ‘বড় বাগানগুলোর ক্ষতি সামলানোর ক্ষমতা আছে। বিপাকে পড়বে ছোট বাগানগুলো। চা চাষে শস্যবিমার মতো ব্যবস্থা থাকলে ভালো হত।’

চ্যাংরাবান্ধার ক্ষুদ্র চা চাষি জয়দেব অধিকারী বললেন, ‘অনেকদিন বৃষ্টির দেখা মেলেনি। জলের অভাবে পাতা খারাপ হচ্ছে, গাছও শুকিয়ে যাচ্ছে। বাগানে জল দিলে আশপাশের খেতের মাটি দ্রুত তা টেনে নিচ্ছে। এখন বৃষ্টির দেখা মিললে বাঁচা যায়।’ উছলপুকুরির চাষি পৃথ্বীরাজ দেবশর্মার কথায়, ‘কবে বৃষ্টি হবে জানি না। একেই ধারে চাষ করি। তার ওপর এখন মোটর, স্প্রিংকলার ভাড়া করে জল দিতে গিয়ে ধারের পরিমাণ বেড়ে চলেছে। কী যে হবে জানি না।’ ভোটবাড়ির ক্ষুদ্র চা চাষি প্রফুল্ল রায়ের মন্তব্য, ‘জলের অভাবের সঙ্গে পোকার আক্রমণে বিঘার পর বিঘা বাগান নষ্ট হচ্ছে। ওষুধ দিয়ে কিছু হচ্ছে না। সংসার চালানো দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

এদিকে, শুধু কৃষকরা নন, চা শিল্প নিয়ে চিন্তিত কারখানার মালিকরাও। ভোটবাড়ির একটি চা কারখানার কর্ণধার দিলীপ পারেখের কথায়, ‘জলের অভাবে ও রোদের তাপে পাতার মান খারাপ হয়ে যাচ্ছে। শুকিয়ে লালচে হয়ে যাওয়া পাতা ফেলে দিতে হচ্ছে। লুপার থেকে বাঁচতে কৃষকদের নিমতেল ও কীটনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দিলেও জলের অভাবে ওষুধ কাজ করছে না। বৃষ্টির দেখা না পেলে পরিস্থিতি আরও ভয়ংকর হবে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *