চ্যাংরাবান্ধা: উত্তরবঙ্গের অন্যতম বড় এবং ঐতিহ্যের মেলা হিসেবে পরিচিত চ্যাংরাবান্ধার ‘মাকসুদিয়া ইসালে সাওয়াব’ বা ‘হুজুর সাহেবের মেলা’ (Hujur Saheb Mela) এবারও সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে জমজমাট হয়ে উঠেছে। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে মেখলিগঞ্জ ব্লকের চ্যাংরাবান্ধা (Changrabanda) সীমান্ত (Indo Bangla Border Mela) লাগোয়া হক মঞ্জিল এলাকা এখন এক মহামিলন ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হলদিবাড়ির হুজুর সাহেবের ছোট ছেলে খন্দকার মহঃ মকসেদুল হক ৪২ বছর আগে চ্যাংরাবান্ধায় এসে এই ধর্ম প্রচার ও মেলার সূচনা করেন। সোমবার বিকেলে ইসলামিক পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন গদ্দিনিশিন হুজুর সৈয়দ মাওলানা নুরুল হক (রুমি হুজুর)। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মেখলিগঞ্জের বিধায়ক পরেশ চন্দ্র অধিকারী, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পম্পা রায় বর্মনসহ বিশিষ্টজনেরা। প্রতিবছর ২১-২২ ফেব্রুয়ারি মেলা হলেও, রমজান মাসের কারণে এবার ১৯-২০ জানুয়ারি মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
মেলা প্রাঙ্গণে প্রায় হাজারখানেক দোকান বসেছে। গৃহস্থালির সরঞ্জাম, ঠাকুরঘরের জিনিসপত্র থেকে শুরু করে হরেক রকম খাবার—সবই মিলছে এখানে। বিশেষ করে শীতের আমেজে ১০ টাকা পিসের ভাপা পিঠা এবং দিল্লি ও মুর্শিদাবাদ থেকে আসা ব্যবসায়ীদের কম্বল ও শীতবস্ত্রের চাহিদা তুঙ্গে। দিল্লির মুন্না হকের আনা ঘোড়াটি ছোটদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। চ্যাংরাবান্ধার বাসিন্দা নান্নু রহমান ও পিয়ালী দাসের মতে, এই মেলা উপলক্ষে ঘরে ঘরে আত্মীয়রা সমবেত হন এবং মাজারে মোম-ধূপকাঠি দিয়ে সকল ধর্মের মানুষ প্রার্থনা জানান।
মেলার ভিড় ও নিরাপত্তা সামলাতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্ছিদ্র ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মাথাভাঙ্গার এএসপি তন্ময় মুখার্জি ও মেখলিগঞ্জের এসডিপিও আশিস পি সুব্বা জানান, মেলা চত্বরে সিসিটিভি এবং ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে। পকেটমার রুখতে সাদা পোশাকের পুলিশ ও মহিলাদের নিরাপত্তায় নারী পুলিশ বাহিনী মোতায়েন আছে। এছাড়া মেলা কমিটির ২৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক ভিড় নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করছেন।
চ্যাংরাবান্ধার এই হুজুর সাহেবের মেলা কেবল একটি উৎসব নয়, বরং দুই বাংলার সীমান্তে দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও সামাজিক মেলবন্ধনের এক অনন্য নিদর্শন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
