পূর্ণেন্দু সরকার, জলপাইগুড়ি: শতাব্দীপ্রাচীন বিলিয়ার্ড বোর্ডে বিলিয়ার্ড খেলা যাবে। চাইলে টেবিল টেনিস, ব্যাডমিন্টন খেলারও সুযোগ রয়েছে। অথবা চিনেমাটির বাথটবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আয়েশ। সবই মিলবে জলপাইগুড়ির (Jalpaiguri) ইউরোপিয়ান ক্লাব। হেরিটেজের আদল বজায় থাকবে। তার মধ্যেই সেজে উঠছে ক্লাবটি। বাংলা নববর্ষের আগে আধুনিকতার মিশেলে ইতিহাস এবং ঐতিহ্যের সাক্ষী হতে পারবেন সাধারণ মানুষ।
সংস্কার করা হচ্ছে ইউরোপিয়ান সাহেবদের এককালের ব্যবহৃত বিলিয়ার্ড বোর্ড, টেবিল টেনিস বোর্ড, ব্যাডমিন্টন কোর্ট। সদর দরজা দিয়ে প্রবেশের সময় অল্প আলো-আঁধারিতে কাঠের সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে বেশ গা-ছমছমে অনুভূতি!
ইউরোপিয়ান ক্লাবের সদর দরজার পাশের সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় চোখে পড়বে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মাথা। আরেকটু ওপরে দেওয়ালের গায়ে পরপর সাজানো হচ্ছে সম্বর, বার্কিং ডিয়ারের শিং সহ মাথা। রাজ্যের অন্যতম প্রাচীন সরকারি লাইসেন্সপ্রাপ্ত বারও এখানে রয়েছে। আগের মতোই ক্লাবের পরিচালনার দায়িত্ব রয়েছে জলপাইগুড়ির ক্লাব কোম্পানি লিমিটেডের হাতে।
১৮৯৪ সালে অবিভক্ত জলপাইগুড়ির ক্লাব রোডে ইউরোপিয়ান টি প্ল্যান্টার্সরা ক্লাবটি স্থাপন করেন। প্রথম থেকেই জলপাইগুড়ি ক্লাব কোম্পানি লিমিটেডের মালিকানায় রয়েছে ক্লাবটি। ক্লাবের ডিরেক্টর আইনজীবী সুব্রত পাল জানান, শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাবের হেরিটেজ স্বীকৃতি আদায়ের জন্য রাজ্য হেরিটেজ কমিশনের কাছে ১২ বছর আগে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। ভেবেছিলেন, কিছু আর্থিক সাহায্য পেলে ক্লাবের সংস্কার সহজেই হবে। সুব্রতর অভিযোগ, ‘কমিশনের তরফে ক্লাব পরিদর্শন করলেও স্বীকৃতি মেলেনি। মেলেনি আর্থিক সাহায্যও। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিই, ক্লাবের হেরিটেজ ঐতিহ্যকে বজায় রেখে সংস্কার করা হবে।’
মঙ্গলবার ইউরোপিয়ান ক্লাবে গিয়ে দেখা গেল, ইংরেজ আমলের বিলিয়ার্ড বোর্ড, টেবিল টেনিস বোর্ড, ক্যারমবোর্ডগুলিকে সংস্কার করা হচ্ছে। সেই সময়ের চিনেমাটির তৈরি বাথটবগুলিকেও খুলে মেরামত করে শৌচালয়ে বসানো হচ্ছে। কয়েকটি ঘর সংস্কার করা হচ্ছে। পুরোনো কাঠের পাটাতনগুলোকে খুলে নতুন পাটাতন বসানো হচ্ছে।
ক্লাবঘরের নীচে বড় ডাইনিং রুম তৈরি করা হয়েছে। সেখানে সিমেন্টের ওপর শিব-পার্বতীর ভাস্কর্য তৈরি করে ঐতিহ্য এবং আধুনিক শিল্প নৈপুণ্যের নিদর্শন রাখা হয়েছে।
জলপাইগুড়ি ক্লাবের বারটিকেও অতীতের ছোঁয়ায় সাজিয়ে তোলা হয়েছে। জেলা আবগারি দপ্তরের সুপারিন্টেন্ডেন্ট শরৎ মিশ্র জানান, উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রাচীন এই ক্লাব পানশালাটির সম্প্রতি লাইসেন্স নবীকরণ করেছে কর্তৃপক্ষ। থাকছে ভারতীয় ও কন্টিনেন্টাল, চাইনিজ সহ বিভিন্ন ধরনের খাবারের রেস্তোরাঁ।
ক্লাব কর্তৃপক্ষের ডিরেক্টর সুব্রত পাল জানান, দুপুর ১২টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত জনপ্রতি ১০০ টাকা খরচ করে ক্লাবে সময় কাটানো যাবে। খাওয়া-দাওয়ার খরচ অবশ্য নিজস্ব। একই পরিষেবা সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত মিলবে মাত্র ৫০ টাকায়। ইউরোপিয়ান ক্লাবের একাধিক জানলার কাচ বেলজিয়াম থেকে আনা হয়েছিল। সেগুলিকে অক্ষত রাখা হয়েছে।
