উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ভোটার তালিকায় তথ্যের অসংগতি বা ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ (Logical Discrepancy) সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টে বড়সড় জয়ের পর এবার কোমর বেঁধে ময়দানে নামছে তৃণমূল কংগ্রেস। আগামী ২৭ জানুয়ারি বাংলার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চলেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলকে সঙ্গে নিয়েই তিনি কমিশনের দফতরে যাবেন।
সোমবার দেশের শীর্ষ আদালত তৃণমূলের দাবিকে মান্যতা দিয়ে এক ঐতিহাসিক নির্দেশ দিয়েছে। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানিয়েছে, ভোটার তালিকায় নাম সংশোধন বা শুনানি (SIR Listening to) পর্বে কোনো ভোটার চাইলে তাঁর সঙ্গে বুথ স্তরের এজেন্ট বা বিএলএ-২ (BLA-2)-দের নিয়ে যেতে পারবেন। এর আগে গত ৩১ ডিসেম্বর দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে এই দাবিই তুলেছিলেন অভিষেক। আদালতের গ্রিন সিগন্যাল পাওয়ার পরই সোমবার বারাসতের সভা থেকে সুর চড়িয়েছেন তিনি। অভিষেক বলেন, “আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকা প্রকাশ করতে হবে এবং শুনানির পর রসিদ দিতে হবে।”
সুপ্রিম কোর্টের এই জয়কে হাতিয়ার করে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “যাঁরা মানুষের মৌলিক ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করছিল, আদালত তাঁদের যোগ্য জবাব দিয়েছে। বিজেপির এসআইআর-এর খেলা আজ শেষ।” একইসঙ্গে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তিনি যোগ করেন, “আজ কোর্টে হারিয়েছি, আগামী এপ্রিলে ভোটে হারাব, বিজেপি তৈরি থাকো।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটার তালিকায় নাম কাটার অভিযোগ নিয়ে তৃণমূল দীর্ঘদিন ধরে সরব ছিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের ফলে শুনানি পর্বে রাজনৈতিক দলের এজেন্টরা উপস্থিত থাকতে পারায় স্বচ্ছতা বাড়বে বলে মনে করছে শাসক শিবির। ২৭ তারিখ সিইও-র সঙ্গে বৈঠকে এই নির্দেশিকা কার্যকর করার প্রক্রিয়া নিয়েই মূলত আলোচনা হবে।
