উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সাংগঠনিক কাঠামোয় শুরু হলো এক নতুন যুগের। জে পি নাড্ডার (JP Nadda) উত্তরসূরি হিসেবে মাত্র ৪৫ বছর বয়সে দলের সর্বভারতীয় সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করলেন নিতিন নবীন (Nitin Nabin)। মঙ্গলবার দলের নবীন নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্পষ্ট করে দিলেন যে, আগামীর বিজেপির (BJP) কাণ্ডারি হতে চলেছেন এই তরুণ ও ‘মিলেনিয়াল’ নেতারাই।
এদিন দলের কর্মীদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi) বলেন, “দলের প্রশ্নে নিতিন নবীনই বস। আমি নিজে একজন সাধারণ দলীয় কর্মী মাত্র।” প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। তিনি নিতিন নবীনকে একজন দক্ষ নেতা হিসেবে উল্লেখ করেন, যিনি দলের আদর্শ ও উত্তরাধিকারকে সার্থকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। মোদীর এই বার্তায় স্পষ্ট যে, সংগঠনের শৃঙ্খলা ও নতুন প্রজন্মের ওপর আস্থা রাখাই তাঁর মূল লক্ষ্য।
নিতিন নবীনের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল ছাত্র সংগঠন এবিভিপি (ABVP)-র মাধ্যমে। তাঁর বাবা প্রয়াত নবীন কিশোর সিনহা ছিলেন বিজেপির একনিষ্ঠ নেতা। ২০১০ সালে বিহারের বাঁকিপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রথমবার জয়ী হয়ে নিজের রাজনৈতিক দক্ষতা প্রমাণ করেন নিতিন। এরপর থেকে টানা চারবার ওই কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। মাঠের রাজনীতি থেকে শুরু করে সাংগঠনিক কৌশল—সবক্ষেত্রেই তিনি নেতৃত্বের নজর কেড়েছেন। গত ডিসেম্বরে তাঁকে কার্যনির্বাহী সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, যা ছিল তাঁর সভাপতি হওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত।
সোমবার বিজেপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন আধিকারিককে লক্ষ্মণ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন যে, কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় নিতিন নবীন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শায়ের (Amit Shah) উপস্থিতিতে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। বয়সের নিরিখে তিনিই বিজেপির ইতিহাসের কনিষ্ঠতম সর্বভারতীয় সভাপতি।
নিতিন নবীনের এই উত্থান ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর কাঁধে এখন গোটা দেশের সংগঠন সামলানোর গুরুদায়িত্ব, যা তিনি প্রধানমন্ত্রী ও শীর্ষ নেতৃত্বের প্রদর্শিত পথে সফলভাবে পালন করবেন বলে দলের অন্দরমহলের বিশ্বাস।
