Chandranath Rath Homicide Case | শুভেন্দুর আপ্তসহায়ক খুন কাণ্ডে বড়সড় মোড়! সিবিআইয়ের জালে এবার দুই সহোদর বিজেপিকর্মী  

Chandranath Rath Homicide Case | শুভেন্দুর আপ্তসহায়ক খুন কাণ্ডে বড়সড় মোড়! সিবিআইয়ের জালে এবার দুই সহোদর বিজেপিকর্মী  

শিক্ষা
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ বিরোধী দলনেতা তথা তৎকালীন বিজেপি নেতার আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ হত্যা (Chandranath Rath Homicide Case) মামলায় বড়সড় সাফল্য পেল সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (CBI)। শুক্রবার দীর্ঘ জেরা করার পর এই হাই-প্রোফাইল খুনের ঘটনায় সরাসরি যুক্ত থাকার অভিযোগে দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে সিবিআই। ধৃতরা সম্পর্কে দুই সহোদর এবং তাঁরা স্থানীয়ভাবে বিজেপির সঙ্গেই যুক্ত বলে জানা গিয়েছে। কেন্দ্রীয় এজেন্সির দাবি, এই দুই ভাই-ই হলেন চন্দ্রনাথ খুনের মূল চক্রী (Masterminds)।

সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত দুই ভাইয়ের নাম সাগর সোনকর এবং সাহেব সোনকর। তাঁরা নিহত চন্দ্রনাথ রথের পূর্বপরিচিত ছিলেন। তদন্তকারীদের দাবি, শুটারদের নিয়ে আসা, খুনের আগে নিখুঁত রেকি করা, অস্ত্র ও রসদ সরবরাহ করা থেকে শুরু করে গোটা অপারেশনটির ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করেছিলেন এই দুই সহোদরই।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সাগর ও সাহেব দু’জনেই ২০২০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেন। তবে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আগে তাঁরা অন্য একটি রাজনৈতিক দলের এক বিধায়কের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সিবিআইয়ের নজরে এসেছে যে, সাগর ল্যান্ডফোনের মাধ্যমে নিয়মিত রহস্যজনক যোগাযোগ রাখতেন। তদন্তকারীদের জোরালো সন্দেহ, এর নেপথ্যে অন্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের কোনো প্রভাবশালী নেতার যোগসূত্র থাকতে পারে। যদিও ঠিক কী কারণে বা কার ইন্ধনে চন্দ্রনাথের ওপর তাঁদের এত ক্ষোভ ছিল এবং এই খুনের মোটিভ কী, তা খতিয়ে দেখছে সিবিআই।

সিবিআইয়ের দাবি, অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও ঠান্ডা মাথার ছকে এই খুন করা হয়েছিল। ২০২৫ সাল থেকেই অর্থাৎ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক কয়েকমাস আগে থেকেই তৎকালীন বিরোধী দলনেতার আপ্তসহায়ককে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা শুরু হয়।

উল্লেখ্য, রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ঠিক পরেই খুন হন চন্দ্রনাথ। ২০২৬ সালের গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হয় এবং রাজ্যে প্রথমবার বিজেপি ক্ষমতা দখল করে। সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে যখন শুভেন্দু অধিকারীর নাম বিভিন্ন মহলে জোরালোভাবে আলোচনা হচ্ছিল, ঠিক তার দু’দিন পরেই অর্থাৎ ৬ মে রাতে মধ্যমগ্রামে নিজের ফ্ল্যাটে ফেরার পথে চার চাকা গাড়ির সামনে বসে থাকা অবস্থায় বাইক নিয়ে এসে আততায়ীরা তাঁকে গুলি করে খুন করে পালিয়ে যায়।

চন্দ্রনাথ রথ হত্যা মামলায় এর আগে যারা গ্রেপ্তার হয়েছিল, তাঁরা মূলত ‘শার্প শুটার’ বা চুক্তিভিত্তিক খুনি এবং মিডলম্যান ছিল। মনু সিং, রাজ সিং, গোলু সিং, ময়াঙ্করাজ মিশ্র, ভিকি মৌর্য এবং নবীনকুমার সিং নামের ওই শুটারদের পাশাপাশি বিনয় রায়, সঞ্জয় রায় এবং বিকাশ মিশ্ররাও আগেই পাকড়াও হয়েছিল। এবার মূল চক্রী দুই ভাই ধরা পড়ায় এই খুনের রহস্য অনেকটাই স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সব ঠিকঠাক থাকলে চলতি অগাস্ট মাসেই এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় আদালতে প্রথম চার্জশিট জমা দিতে পারে সিবিআই।

দলেরই হেভিওয়েট নেতার আপ্তসহায়ক খুন এবং তাতে খোদ দলীয় কার্যকর্তাদের নাম জড়িয়ে যাওয়ায় রাজ্য রাজনীতিতে ‘অন্তর্ঘাত’ বা ঘরের শত্রু বিভীষণ তত্ত্ব জোরালোভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এই প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “এদের আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। কিন্তু চন্দ্রনাথকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনতাম। আমি একটা ভাইকে হারিয়েছি। আইন আইনের পথে চলবে। দল কোনোভাবেই এই অপরাধীদের আড়াল করবে না এবং কেউ কোনো ধরনের রাজনৈতিক ইমিউনিটি (Political Immunity) পাবে না।”



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *