Chalsa | পেটের টানে বিপদ মাথায় জঙ্গলে মহিলারা

Chalsa | পেটের টানে বিপদ মাথায় জঙ্গলে মহিলারা

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


রহিদুল ইসলাম, চালসা: জঙ্গল সংলগ্ন এলাকায় বুনো-মানুষের সংঘাত অব্যাহত। দুই পক্ষেরই বেঁচে থাকার লড়াই। আর তাতেই বাড়ছে বিপদ। খাবারের লোভে বর্তমানে প্রায় প্রতি রাতে জঙ্গল থেকে বেরিয়ে লোকালয়ে চলে আসছে হাতির দল। রাতভর লোকালয়ে তাণ্ডব চালিয়ে ফিরে যাচ্ছে জঙ্গলে। এদিকে দিনেরবেলায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বনের মধ্যে বুনোদের আশ্রয়স্থলে পৌঁছোচ্ছেন মানুষ। পেটের টানে জঙ্গল সংলগ্ন এলাকার অনেক মহিলা জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে বুনোদের এলাকায় ঢুকছেন। এর ফলে যে কোনও সময় বিপদ ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এমনকি প্রাণহানি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। অন্যদিকে মহিলারা এভাবে জঙ্গলের ভিতরে অবাধে কী করে ঢুকে পড়ছেন তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। সেক্ষেত্রে বন দপ্তরের ভূমিকা নিয়েও জনমানসে বাড়ছে ক্ষোভ।

বর্তমানে প্রায় রোজই চালসা রেঞ্জের (Chalsa) পানঝোরা জঙ্গল থেকে সন্ধ্যার পর মূর্তি নদী পেরিয়ে হাতি লোকালয়ে চলে আসে। কিছুদিন আগেও একটি হাতি বেরিয়ে পর্যটনকেন্দ্র মূর্তিতে পৌঁছেছিল। একটি বেসরকারি রিসর্টের ভিতরে ঢুকে নির্মীয়মাণ বিয়েবাড়ির প্যান্ডেলও ভেঙে দিয়েছিল হাতিটি। এছাড়া খাবার খুঁজতে লোকালয়ে হাতি হানা দিলে সাধারণ মানুষের ফসল থেকে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এদিকে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের জন্য এলাকার কিছু মহিলা দিনেরবেলায় বনকর্মীদের নজর এড়িয়ে নদী পেরিয়ে পানঝোরা জঙ্গলে যাচ্ছেন। এর আগেও এভাবে জঙ্গলের ভিতরে বহু মানুষের হাতির হানায় মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু তাতেও হুঁশ ফেরেনি একাংশের। এব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহিলা জানালেন, ‘দিনের পর দিন জ্বালানি গ্যাসের দাম বাড়ছে। আমাদের গ্যাস কেনার সামর্থ্য নেই। তাই পেটের তাগিদেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জঙ্গল থেকে জ্বালানি আনতে আমরা বাধ্য হচ্ছি।’

এনিয়ে সাধারণ মানুষ সচেতন না হওয়া পর্যন্ত সমস্যার সমাধান হবে না বলে জানালেন চালসার রেঞ্জ অফিসার সাম্য রায়। তাঁর কথায়, ‘বনকর্মীরা তাঁদের সাধ্যমতো নজরদারি চালান। এবিষয়ে যৌথ বন সুরক্ষা কমিটিকে উদ্যোগী ভূমিকা নেওয়া উচিত।’ জঙ্গল সংলগ্ন এলাকায় এবিষয়ে সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করা হবে বলেও তিনি জানান। আবার পানঝোরা বিটের অন্তর্গত সাউথ ইনডং যৌথ বন সুরক্ষা কমিটির সদস্য এরশাদ আলি জানান, বরাবরই জঙ্গল সংলগ্ন এলাকার মানুষকে জঙ্গলের ভিতরে না যাওয়ার জন্য সচেতন করা হয়। এরপরেও অনেকে তা মানেন না। তবে এনিয়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি  জারি থাকবে।

এলাকার পরিবেশপ্রেমী সাবুল হক এদিন সতর্ক করে বলেন, ‘বর্তমানে লোকালয় সংলগ্ন জঙ্গলেই হাতি আশ্রয় নিচ্ছে। যাতে সন্ধ্যার পর সহজে তারা লোকালয়ে চলে আসতে পারে। এই মরশুমে তাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জঙ্গলের ভিতরে যাওয়া একদমই ঠিক না। যে কোনও সময় বড় কোনও দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।’ এবিষয়ে বন দপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *