সপ্তর্ষি সরকার, ধূপগুড়ি: প্রাচীন প্রবাদে বলে, পান খেতে গিয়ে মুখ পুড়লে দই দেখেও ভয় লাগে। জনগণনার কাজে ময়দানে নামা কর্মীদের অবস্থা এখন অনেকটা তেমনই। তাঁদের ভয় অন্নপূর্ণা যোজনাকে ঘিরে। ভিড় ঠেলে ডিবিটি লিংক করানো, লাইনে ধাক্কা খেয়ে আবেদনপত্র জমা দেওয়া এবং পরে ‘আন্ডার এনকোয়ারি’ দেখানো নিয়ে শহর থেকে গ্রাম, সর্বত্রই ক্ষোভ ছড়িয়েছে। তার মধ্যেই সেনসাস হাউস নম্বর দিতে এনুমারেটর হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া কর্মীরা এলাকায় যাচ্ছেন (Census Employees)। হাতের কাছে সেনসাস কর্মীদের পেয়ে মহিলাদের একাংশ অন্নপূর্ণার ক্ষোভ উগরে দিচ্ছে।
বাড়ি বাড়ি নম্বর দিতে যাওয়া কর্মীদের অভিজ্ঞতাও তেমনই। কেউ সেনসাস কর্মীদের অন্নপূর্ণা যোজনার সার্ভেয়ার ভাবছেন। আবার কেউ মনে করছেন, সেনসাসে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে অন্নপূর্ণা অনুমোদনের সম্পর্ক রয়েছে। ফলে এই কর্মীদের প্রতিদিনই বিচিত্র অভিজ্ঞতার মুখে পড়তে হচ্ছে।
কিছুদিন আগে অন্নপূর্ণা আবেদনকারীদের ক্ষোভ ক্রান্তি ব্লকে আছড়ে পড়েছিল। সেখানে সেনসাস করতে গিয়ে শিক্ষক অনীত শর্মার অভিজ্ঞতা, ‘হাস্যকর পরিস্থিতিতে প্রায়ই বিব্রত হতে হচ্ছে। সার্ভে শুনেই মহিলারা একরকম হামলে পড়ছেন। আমরা কী জিজ্ঞাসা করব, উলটে তাঁদের প্রশ্নেই জেরবার অবস্থা। অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা কেন ঢুকছে না, কীভাবে ঢুকবে, এই সেনসাসের সঙ্গে অন্নপূর্ণা যোজনা প্রকল্প কোনওভাবে যুক্ত কি না, তা নিয়ে নানা প্রশ্নের জবাব দিতে হচ্ছে। কাজের তুলনায় জবাবদিহিতেই আমার মতো বেশিরভাগ কর্মীর বেশি সময় যাচ্ছে।’ ধূপগুড়ি শহরের ছবিটাও প্রায় একই। চিন্ময় দাস বলেন, ‘ঘরবাড়ির সমস্ত তথ্য জানাতে কেমন একটা ইতস্তত ভাব দেখা যাচ্ছে। অনেকেই বলছেন বাড়িঘরদোরের বেশি তথ্য দিলে চিরতরে অন্নপূর্ণা পাওয়ার আশা ফুরিয়ে যেতে পারে। তাই বুঝেশুনে অনেকেই তারপর সবটা দিতে চাইছেন।’
অনেক ক্ষেত্রে সেনসাস এনুমারেটরদের প্রশ্ন শুনতে হচ্ছে, ঠিক কতটা পরিকাঠামো দেখালে অন্নপূর্ণায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। সেনসাসের সঙ্গে অন্নপূর্ণার কোনও সম্পর্ক নেই, তা বোঝাতে কর্মীরা রীতিমতো নাস্তানাবুদ হচ্ছেন। জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসনের এক শীর্ষকর্তা বলেন, ‘এমনটা হওয়ার কথা নয়। সেনসাস পুরোপুরি সাংবিধানিক বিষয়। অন্নপূর্ণা যোজনা প্রকল্পের সঙ্গে তার দূরদূরান্ত পর্যন্ত কোনও সম্পর্ক নেই। দুটো বিষয় গুলিয়ে ফেললে সঠিক হবে না। সেনসাসে যথাযথ সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করা এবং সেটা তুলে দেওয়া কর্মী এবং গৃহস্থের অবশ্য কর্তব্য।’
সরকারের হাতে সব তথ্য চলে যাওয়ার আশঙ্কায় বাড়িতে আসা কর্মীদের বদলে সেল্ফ এনুমারেশনে ঝোঁক বাড়ছে। নিজেরা না পারলে অনেকে ক্যাফেতে যাচ্ছেন। ধূপগুড়ির ক্যাফে কর্ণধার পিক্লু কর্মকার বলেন, ‘বসে থেকে সমস্ত তথ্য পূরণ করে অনেকে সেল্ফ এনুমারেশন করছেন। এজন্যে আমরা মাথাপিছু ২০ থেকে ৫০ টাকা নিচ্ছি।’
সেনসাসের প্রাথমিক পর্ব এই মুহূর্তে তৃণমূল স্তরে পুরোদমে চলছে। বাড়ি বাড়ি নম্বর দেওয়ার পর চলতি মাসের ১৬ তারিখ থেকে তথ্য সংগ্রহ শুরু হবে। এখনই প্রশ্নে জেরবার কর্মীদের আশঙ্কা, তখন আরও কত প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে।

