উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: অবশেষে সফল বাঘবন্দী খেলা! দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পেল বন দপ্তর। বক্সা টাইগার রিজার্ভে (Buxa Tiger Reserve) ছাড়ার জন্য বিহারের বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভের (Valmiki Tiger Reserve) ঘন অরণ্যে একটানা কয়েকদিনের নিরলস প্রচেষ্টার পর অবশেষে খাঁচাবন্দি করা হয়েছে একটি ৩ বছর বয়সের বাঘিনীকে। ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া এবং ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেশন অথরিটির যৌথ টিম এবং পশ্চিমবঙ্গ বন দপ্তরের যৌথ অভিযানে ঘুমপাড়ানি গুলির সাহায্যে তাকে কাবু করা হয়। গত বৃহস্পতিবার থেকে বিহারের ওই জঙ্গলে বাঘ আটকের এই অভিযান চললেও প্রতিকূল আবহাওয়া ও বৃষ্টি কিছুটা বাধা সৃষ্টি করেছিল। তবে সমস্ত প্রতিকূলতাকে জয় করে শেষ পর্যন্ত বাঘিনীটিকে আয়ত্তে আনতে সক্ষম হন বনকর্মীরা।
রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাওঁ নিজের সামাজিক মাধ্যমে এই সুখবরটি প্রকাশ্যে এনেছেন। বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সম্ভবত রাতেই কপ্টারে করে ওই বাঘিনীটিকে উত্তরবঙ্গের হাসিমারা এয়ারবেসে উড়িয়ে আনা হবে। পরবর্তীতে সেখান থেকে বিশেষ নিরাপত্তাবলয় ও গ্রিন করিডোরের মাধ্যমে তাকে বক্সা টাইগার রিজার্ভের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হবে। মূলত বক্সার জঙ্গলে বাঘের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে এবং তাদের বংশবৃদ্ধির পথ প্রশস্ত করতেই এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞ মহলের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল যে বক্সার বাস্তুতন্ত্রের পূর্ণতা আনতে অবিলম্বে বাঘের উপস্থিতি প্রয়োজন। তবে প্রথম থেকেই একসঙ্গে একাধিক বাঘ ছাড়ার ঝুঁকি নিতে নারাজ বনকর্তারা, কারণ জঙ্গলের ভেতর প্রায় ২.২ হেক্টর জমির যে প্রকাণ্ড এনক্লোজার বা বেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে, সেখানে একসঙ্গে একাধিক বাঘ রাখলে পরিসর নিয়ে সমস্যা হতে পারত। সেই কারণে প্রাথমিক পর্যায়ে কেবল একটি বাঘিনীকেই নির্দিষ্ট এনক্লোজারে রাখা হবে।
আগামী ২ অক্টোবর অর্থাৎ গান্ধীজয়ন্তীর দিনে আলিপুরদুয়ার প্যারেড গ্রাউন্ডে এক বিশেষ এবং জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সেই অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে বক্সার জঙ্গলে বাঘিনীটিকে উন্মুক্ত করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এই আয়োজনে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। বক্সা রিজার্ভের অন্দরে বাঘের স্থায়ী বসতি গড়ে তোলার এই প্রথম প্রয়াসকে ঘিরে উত্তেজনার পারদ চড়েছে উত্তরবঙ্গে। বনমন্ত্রী আগেই পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে পরিকল্পনা অনুযায়ী ধাপে ধাপে বক্সায় বাঘ ও বাঘিনী আনা হবে। বর্তমানের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই বাঘিনীটিকে বনাঞ্চলে মানিয়ে নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার প্রায় দুই মাস বাদে পরবর্তী সময়ে একটি বাঘ ছেড়ে পরিবেশের ভারসাম্য আরও সুদৃঢ় করা হবে।

