Alipurduar | বহুতলে বিপদ! আলিপুরদুয়ারে ১৮টি হোটেল ও ভবনকে নোটিশ 

Alipurduar | বহুতলে বিপদ! আলিপুরদুয়ারে ১৮টি হোটেল ও ভবনকে নোটিশ 

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


আলিপুরদুয়ার: কোথায় অনুমতি, আর কোথায় বৈধ কাগজপত্র। বর্তমানে আলিপুরদুয়ার (Alipurduar) শহরে বহুতলগুলো দেখলে এই প্রশ্ন উঠতে বাধ্য। হোটেল হোক কিংবা রেস্তোরাঁ বা ভবন সবক্ষেত্রেই পরিকল্পনার (বিল্ডিং প্ল্যান) কাগজপত্রে গরমিলের অভিযোগ। কোথাও তিনতলার অনুমতি রয়েছে অথচ পরিদর্শনে গিয়ে পাঁচতলা ভবন তৈরির অভিযোগ পাচ্ছেন দমকলের কর্তারা। আবার কোথাও কাগজপত্র ছাড়াই ছাদের উপর সুইমিং পুল তৈরি করা হয়েছে। এমনকি কয়েকটি ভবনে পরিকাঠামোগত ত্রুটির কারণে বিয়ে বা অন্নপ্রাশনের মতো অনুষ্ঠানের সময় দুর্ঘটনা ঘটলে সেখান থেকে বের হওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা। এই পরিস্থিতিতে শহরের প্রায় ১৮টি হোটেল ও ভবনে ইতিমধ্যেই নোটিশ পাঠিয়েছে দমকল কর্তৃপক্ষ। ইতিপূর্বেও একই রকম নোটিশ দেওয়া হলেও সমস্যা মেটেনি বলে অভিযোগ।

এই বিষয়ে আলিপুরদুয়ার দমকলের ভারপ্রাপ্ত ওসি রাজীব দাস বলেন, ‘পরিদর্শনে গিয়ে কোনও ভুলত্রুটি ধরা পড়লে মালিকদের দমকলের গাইডলাইন মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। সেক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। তবে অনেকে অতিরিক্ত সময় চেয়েছেন।’

এদিকে, কাগজপত্র গরমিল থাকা সত্ত্বেও হোটেল ও ভবন তৈরির অনুমতি দেওয়ায় পুরসভার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ব্যাপারে আলিপুরদুয়ার পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসার ইউজেন মোক্তানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি তোলেননি।
আলিপুরদুয়ার শহরে বড় হোটেল ও রেস্তোরাঁর সংখ্যা ক্রমশ বেড়েই চলছে। বিয়ে, অন্নপ্রাশন, জন্মদিন সহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠান সেখানে লেগেই থাকে। তখন একসঙ্গে বহু মানুষের ভিড় জমে। তবে কোথায় নিরাপত্তা? বর্তমানে শহরে বহুতলের নিরাপত্তাজনিত উদাসীনতাই ভাবাচ্ছে সকলকে। বহুতলে ওঠানামার সিঁড়ির পরিসর তুলনামূলকভাবে ছোট বলে অভিযোগ। অগ্নিকাণ্ড বা ভূমিকম্পের মতো ঘটনা ঘটলে বিকল্প যাতায়াতে পথ নেই। শুধু কি তাই, দ্বিতল বা তিনতলা ভবনের অনুমতি নিয়ে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে চার-পাঁচতলা তৈরি হলেও তার বেশিরভাগই কাগজপত্র নেই বলে অভিযোগ।

ছাদের উপর সুইমিং পুল তৈরি করতে হলে বিশেষ অনুমতি নিতে হয়। বিশেষ করে নিরাপত্তার দিকে অতিরিক্ত নজর রাখার নির্দেশ থাকে। ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় সুইমিং পুলের অত্যধিক জলের চাপ ভবনের ক্ষতি করতে পারে। তবে শহরে একটি হোটেলে সুইমিং পুলের ন্যূনতম নিরাপত্তা দেখে চক্ষু চড়কগাছ দমকলের কর্তাদের।

এছাড়া, হোটেল ও ভবনগুলিতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে জনসমাগমের কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তা বিষয়ে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিতে হয়। বিশেষ করে হঠাৎ করে দুর্ঘটনার কবলে পড়লে বহুতল থেকে যাতে তাঁদের নিরাপদ স্থানে পৌঁছানো যায় তার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ রয়েছে। তবে বেশিরভাগ হোটেল, রেস্তোরাঁয় প্রধান রাস্তা বন্ধ হলে বিকল্প ব্যবস্থা করে উদ্ধারকাজ চালানো একরকম চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বলেই মনে করছেন দমকলের বিশেষজ্ঞরা।

সম্প্রতি কয়েকটি হোটেল কর্তৃপক্ষ অবশ্য বিকল্প হিসেবে লোহার সিঁড়ি তৈরি করছে বলে জানান। তবে তাতে পরিস্থিতি কতটা সামাল দেওয়া যাবে সেটা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *