বর্ধমানঃ বর্ধমানের রেনেসাঁ উপনগরী এলাকায় গাড়ি থেকে নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় নাটকীয় মোড় (Burdwan Cash Restoration)। পুলিশের দাবি অনুযায়ী এই চক্রের সঙ্গে বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ-এর যোগসূত্র থাকলেও, শেষ পর্যন্ত ধৃতদের জামিন মঞ্জুর করল বর্ধমান আদালত। আর এই খবর সামনে আসতেই পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশকে তীব্র শ্লেষ মাখানো ভাষায় আক্রমণ শানালেন সাংসদ সৌমিত্র খাঁ।
গত বুধবার বিকেলে বর্ধমান থানার পুলিশ রেনেসাঁ এলাকায় একটি চারচাকা গাড়ি থেকে ৬ লক্ষ ৪৯ হাজার টাকা উদ্ধার করে। গাড়িতে থাকা বাঁকুড়ার ওন্দার বাসিন্দা সৌরভ ঘোড়ুই এবং বাপন হাঁসদাকে গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অর্ক বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিক বৈঠকে দাবি করেন, ধৃতরা জেরায় জানিয়েছে যে বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ-এর পিএ (PA) হৃদয় পালের নির্দেশে তারা বালিঘাট থেকে ওই টাকা সংগ্রহ করেছিল।
পুলিশ ধৃতদের ১০ দিনের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানালেও আদালত তা খারিজ করে দেয়। নথিপত্র ও প্রমাণের অভাবে বৃহস্পতিবারই ধৃত দুই ব্যক্তির জামিন মঞ্জুর করেন বিচারক। রাতেই তাঁরা মুক্তি পান।
পুলিশি পদক্ষেপের এই ‘ব্যর্থতা’ নিয়ে মুখ খুলেছেন সৌমিত্র খাঁ। তিনি বিদ্রুপের সুরে বলেন, “জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অর্ক বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই দুর্বল চিত্রনাট্য সাজানোর জন্য ‘নোবেল পুরস্কার’ দেওয়া উচিত। তৃণমূলের দলদাস পুলিশ প্রমাণ ছাড়াই বিজেপির বদনাম করতে নেমেছিল, যা আদালত বুঝে গিয়েছে।”
পাল্টা তৃণমূলের জেলা সাধারণ সম্পাদক বাগবুল ইসলাম বলেন, “বিজেপি তোলাবাজি করে দোষ চাপায় তৃণমূলের ঘাড়ে। চোরের মায়ের বড় গলা।” অন্যদিকে বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্রের দাবি, পুলিশ ঠিকমতো চিত্রনাট্য সাজাতে না পেরেই মুখ পুড়িয়েছে।
