উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বাস্তব হতে চলেছে কোটি কোটি ভারতীয়র স্বপ্ন। ভারতের মাটিতে দ্রুতবেগে ছুটতে চলা প্রথম বুলেট ট্রেনের (Bullet Prepare) ‘ফার্স্ট লুক’ বা প্রথম ঝলক আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করল রেল মন্ত্রক। দিল্লির রেল ভবনের ৪ নম্বর গেটের কাছে এই অত্যাধুনিক বুলেট ট্রেনের চমৎকার নকশাটি (Design) উন্মোচন করা হয়েছে। দেশের প্রথম এই হাই-স্পিড ট্রেনের গতিবেগ এবং সুযোগ-সুবিধা দুই-ই এককথায় চমকে দেওয়ার মতো।
রেল মন্ত্রকের প্রকাশ করা নকশায় দেখা যাচ্ছে, ট্রেনের সামনের অংশটি অত্যন্ত আধুনিক এবং ‘অ্যারোডাইনামিক’ বা বায়ুগতিশীল উপায়ে তৈরি। এই বিশেষ ডিজাইনটি তীব্র গতিতেও ট্রেনের ভারসাম্য ও গতি বজায় রাখতে সাহায্য করবে। ট্রেনের ভেতরের পরিবেশ এবং সুযোগ-সুবিধা হবে একবারে বিমানের মতো বিশ্বমানের ও আরামদায়ক। একসঙ্গে প্রায় ১০০০ জন যাত্রী এই ট্রেনে যাতায়াত করতে পারবেন।
রেল সূত্রে (Indian Railways) জানা গিয়েছে, দেশের প্রথম বুলেট ট্রেনটি ছুটবে মুম্বই থেকে আহমেদাবাদ পর্যন্ত। ৫০৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথে মোট ১২টি স্টেশন থাকবে। অত্যাধুনিক এই ট্রেনের সর্বোচ্চ গতি হবে ঘণ্টায় ৩২০ থেকে ৩৫০ কিলোমিটার। ফলে মুম্বই থেকে আহমেদাবাদ পৌঁছাতে সময় লাগবে মাত্র ২ ঘণ্টা। জাপানের বিখ্যাত ‘শিনকানসেন’ (Shinkansen) প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে এই ট্রেনটি তৈরি হচ্ছে। ট্রেনের ডিজাইন, সিগন্যালিং ব্যবস্থা থেকে শুরু করে নিরাপত্তার সমস্ত আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড নেওয়া হচ্ছে জাপান থেকে। তবে গোটা প্রকল্পটির রূপায়ণ হচ্ছে মোদী সরকারের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ (Make in India) উদ্যোগের অধীনে।
দেশে দ্রুত এই বুলেট ট্রেন পরিষেবা চালু করতে ইতিমধ্যেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। বিভিন্ন অংশে সুড়ঙ্গ খোঁড়া থেকে শুরু করে পিলার নির্মাণের কাজ চলছে জোরকদমে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই অভিনব রেল পরিষেবা চালু হলে ভারতের পরিবহন ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক বিপ্লব আসবে। যাতায়াতের সময় এতটাই কমে যাবে যে, এই বুলেট ট্রেন সরাসরি বিমান পরিষেবাকে টেক্কা দেবে। একই সঙ্গে দুই রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির ফলে দেশের অর্থনৈতিক মানচিত্রেও এর এক বিরাট ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
