শুধু সত্য ও তথ্যের শক্তিতে দীর্ঘ এই পথ চলা

শুধু সত্য ও তথ্যের শক্তিতে দীর্ঘ এই পথ চলা

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


গৌতম সরকার

ইতিহাস বৈকি। ৪৬ বছর পার হয়ে অর্ধশতকের পথে যাত্রা শুরু। যে যাত্রা একান্তভাবে নিরপেক্ষ, নির্ভীক। মাটির সঙ্গে যোগাযোগ দৃঢ়। মানুষের মন যথাযথভাবে বুঝতে পারার ক্ষমতা। প্রমাণ? সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে ফলাফলের নিখুঁত পূর্বাভাস দিতে পেরেছিল উত্তরবঙ্গ সংবাদ। জেলায় জেলায় ঘুরে মানুষের হৃদয়ের কথা তুলে এনেছিল। শুধু তাই নয়, পক্ষপাতদুষ্ট না হয়ে ‘উত্তরের আত্মার আত্মীয়’ সেই সত্য যথাযথভাবে তুলে ধরেছিল পাঠকের কাছে।

ক্ষমতা বা অন্য কোনও শক্তির নিয়ন্ত্রণের বাইরে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকতার ধর্ম রক্ষা আজকের দিনে বড় চ্যালেঞ্জ। যে কাজটি বছরের পর বছর সাফল্যের সঙ্গে করে চলেছে উত্তরবঙ্গ সংবাদ। সাংবাদিকতার দুই শর্ত- সত্য ও তথ্য আমাদের সমস্ত মূল শক্তি। যা কিছু সত্য, তথ্যের ভিত্তিতে তাকে তুলে ধরার শিরদাঁড়া সোজা রেখে চলতে আমরা ছিলাম দ্বিধাহীন। তথ্য যথাযথ হলে তাকে পাঠকের দরবারে উপস্থিত করতে উত্তরবঙ্গ সংবাদ বরাবর অকুতোভয়।

সত্য সকলের কাছে প্রিয় হয় না। সংস্কৃতে প্রচলিত শ্লোক আছে- সত্যম ব্রুয়াৎ প্রিয়ম ব্রুয়াৎ, ন ব্রুয়াৎ সত্যম অপ্রিয়ম। অপ্রিয় সত্য বলতে নিষেধ করা আছে সেই শ্লোকে। উত্তরবঙ্গ সংবাদ সেই শ্লোকের চিরাচরিত ধারণা থেকে বেরিয়ে এসেছে। কারও কাছে অপ্রিয় হলেও তা যদি সত্য হয়, সেটাকে আঁকড়ে ধরে রেখেছে সবসময়। গত বিধানসভা নির্বাচনের আগাম পর্যালোচনা সেই তথ্যের বড় প্রমাণ।

ভোটে পূর্বতন শাসকদলের শোচনীয় পরাজয়ের কারণ বিশ্লেষণে উত্তরের আত্মার আত্মীয় ছিল সত্য ও তথ্যের প্রতি দায়বদ্ধ। ক্ষমতার ভরকেন্দ্র বদলে যেতেই পারে। সরকারেরও পরিবর্তন হয় গণতন্ত্রে। উত্তরবঙ্গ সংবাদ বিশ্বাস করে, তার সঙ্গে সাংবাদিকতার ধর্মের বদলের সম্পর্ক নেই। থাকা উচিতও নয়। সংবাদ সবসময় মানুষের স্বার্থ তুলে ধরার জন্য। পরিবেশিত খবরে ক্ষমতাসীনরা অসন্তুষ্ট হলেও সংবাদ মাধ্যমের সেই ধর্ম পালনে অবিচল থাকা উচিত।

মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা সংবাদের একমাত্র শর্ত। সেই শর্ত পালনে পক্ষপাত বাঞ্ছনীয় নয়। প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে সেই পথ গত ৪৬ বছর অনুসরণ করেছে উত্তরবঙ্গ সংবাদ। ক্ষমতায় যে শক্তিই থাকুক না কেনও, আগামীদিনে সেই লক্ষ্যে স্থির থাকা আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকার। সেই উদ্দেশে অবিচল থাকতে চলতি বছরের গোড়ায় আমরা কিছু নতুন বিভাগ চালু করেছিলাম। যার সঙ্গে যুক্ত ছিল মানুষের মনের ভাষা।

সেই বিভাগগুলির অন্যতম ছিল ‘খতিয়ান ৫ বছর’। যেখানে নির্বাচনের আগে ৫ বছরের পারফরমেন্সের ভিত্তিতে বিধায়কদের রিপোর্ট কার্ড তৈরি করেছিলেন আমাদের সাংবাদিকরা। মানুষের সঙ্গে মুখোমুখি আলোচনার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়েছিল বিধায়কদের। যেখানে শাসক ও বিরোধী ভাগ ছিল না। সকলকেই নির্মম অথচ নিরপেক্ষ মূল্যায়নের সামনে দাঁড় করানো হয়েছিল। যা পাঠক মহলে প্রশংসিত হয়েছিল। যে মূল্যায়নের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলতে পারেননি কেউ।

আইনবিরুদ্ধভাবে অনেকে ক্ষমতা ভোগ করেন। বিশেষ করে মহিলা জনপ্রতিনিধিদের স্বামী, ছেলে বা অন্য কোনও আত্মীয় বা তাঁর দলের কোনও নেতা। সেই বেআইনি তৎপরতাকে বেআব্রু করতে উত্তরবঙ্গ সংবাদের ‘নামেই নেত্রী’ বিভাগ পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। উত্তরের আত্মার আত্মীয় বরাবর উত্তরবঙ্গের শিকড়ের প্রতি দায়বদ্ধ। অনুসন্ধিৎসু মন নিয়ে শিকড়ের সন্ধান চলতি বছরে অব্যাহত আছে।

উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জনপদের অদ্ভুত সব নামের উৎস ও মাহাত্ম্য, হারিয়ে যেতে বসা পুরোনো পেশা, ঐতিহ্য, সংস্কৃতির খোঁজ চলছে এখনও। তার জন্য রয়েছে আলাদা আলাদা বিভাগ। ফুটপাথের জীবিকায় বেঁচে থাকে যে মানুষ, তাঁর মধ্যে জীবনের স্পন্দন খুঁজেছেন আমাদের সাংবাদিকরা। বিভিন্ন শহরের আড্ডার ইতিহাস, সংস্কৃতি তুলে ধরেছেন। আবার ছাদকে কেন্দ্র করে জীবনের আকর্ষণীয় নানা গল্পের হদিস দিয়েছেন।

পথ চলতে চলতে ৫০ বছরে পৌঁছানো আর বেশি দেরি নেই। আমরা চাই, পাঠক আরও বেশি বেশি করে পত্রিকার বিকাশে পরামর্শ দিন। পাঠকের ইচ্ছা, স্বার্থ আমাদের পাথেয়। সত্য ও তথ্যকে ঊর্ধ্বে রেখে চলার শপথ নিচ্ছে আপনাদের প্রিয় উত্তরের আত্মার আত্মীয়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *