উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: বিশ্ব রাজনীতির সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আজ, শনিবার নয়াদিল্লিতে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হল বহুল প্রতীক্ষিত ব্রিকস সম্মেলন ২০২৬ (BRICS Summit 2026)। এই সম্মেলনে যোগ দিতে রাজধানীতে উপস্থিত হয়েছেন বিশ্বমঞ্চের হেভিওয়েট নেতারা। এর মাঝেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে হাত ধরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বিশেষ ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন, যা আন্তর্জাতিক মহলে কূটনৈতিক তাৎপর্যের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত এই সম্মেলনে উপস্থিত রয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রধানমন্ত্রী প্রাবোও সুবিান্তোও। সমাজমাধ্যমে ছবি পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী মোদি লিখেছেন, “নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন ২০২৬ শুরু হয়েছে।”
সম্মেলনের প্রথম দিনেই নিজের বক্তব্যে জোরালোভাবে গ্লোবাল সাউথের (International South) অধিকারের পক্ষে সওয়াল করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি জানান, গ্লোবাল সাউথভুক্ত দেশগুলির নীতি নির্ধারকদের বিশ্বমানের আন্তর্জাতিক সংলাপের উপযোগী করে তুলতে এবং প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ দিতে ভারত সম্পূর্ণ প্রস্তুত। উন্নয়নশীল দেশগুলির কণ্ঠস্বর যাতে বিশ্বমঞ্চে জোরালো হয়, সেটাই এই আলোচনার মূল লক্ষ্য।
বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরীণ স্বার্থ ও মতপার্থক্য সত্ত্বেও দীর্ঘ ও কঠিন কূটনৈতিক আলোচনার পর অবশেষে ব্রিকস সদস্য দেশগুলির মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। আজ সকালে এক বড় কূটনৈতিক সাফল্যের মধ্য দিয়ে ব্রিকস নেতারা ঐতিহাসিক দিল্লি ঘোষণাপত্র (Delhi Declaration) অনুমোদন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, এই বৈঠক অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও ইতিবাচক হয়েছে, এবং কোনো সদস্য দেশই এতে দ্বিমত পোষণ করেনি।
সম্মেলনের পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেও ব্যস্ত রয়েছেন রাষ্ট্রনেতারা। শুক্রবার সকালেই দিল্লিতে এসে পৌঁছন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে তাঁর এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়। বৈঠকে রাজনীতি, অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা, শক্তি, মহাকাশ গবেষণা এবং জনসচেতনতামূলক ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং কৃষ্ণ সাগরীয় অঞ্চলের (Black Sea area) সংঘাত নিয়ে পুতিনের সঙ্গে কথা বলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে যুদ্ধ বা সংঘাত এড়িয়ে একমাত্র আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমেই যে সমস্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব, সেকথা স্পষ্ট জানিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী মোদি।

