সুস্মিতা গঙ্গোপাধ্যায়, মায়ামি: চারদিকে যখন নীল-সাদা জার্সির উত্তাল সমুদ্র, তখন সেখানে একবিন্দু হলুদের উপস্থিতি কতটা বিপজ্জনক হতে পারে? ইস্টবেঙ্গলের গ্যালারিতে বসে মোহনবাগানের জার্সি গায়ে বিপক্ষ দলের হয়ে গলা ফাটানোর মতোই চরম দুঃসাহসিক কাজ! আর ঠিক এই স্পর্ধা নিয়েই মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে হাজির নিক্সন জোসেফ (Brazil fan in Argentina gallery)।
হাইতির বাসিন্দা নিক্সন বর্তমানে থাকেন মায়ামির পম্পানো সৈকতের কাছে। গায়ে তাঁর ফুটবলের রাজা পেলের নামাঙ্কিত ১০ নম্বর ব্রাজিলের জার্সি। হাজার হাজার আর্জেন্টাইন সমর্থকের ভিড়ে তাঁকে মূর্তিমান ব্যতিক্রম লাগছিল। এমন অদ্ভুত সাজের কারণ জানতে চাইলে এই সাদামাটা ভদ্রলোক অত্যন্ত নির্বিকার ভঙ্গিতে বলেছেন, ‘আমি তো কেপ ভের্দেকে সমর্থন করতে এসেছি। সোজা কথায়, আর্জেন্টিনাকে হারাতে!’
আশপাশে হাজারো আর্জেন্টাইন সমর্থক, যে কোনও মুহূর্তে রোষানলে পড়ার শঙ্কা! কিন্তু নিক্সনের চোখেমুখে কোনও ভয় নেই। তাঁর স্পষ্ট কথা, ‘আমার কাছে পেলের ওপরে কেউ নেই। তবে আজ বলে নয়; দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল, রাশিয়া থেকে কাতার- সব বিশ্বকাপেই আমি আর্জেন্টিনার ম্যাচ দেখতে যাই শুধু ওদের হারার প্রার্থনা নিয়ে! যদিও গতবার ওরা চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেল।’ তবে কি মেসিকে তাঁর পছন্দ নয়? নিক্সনের শান্ত জবাব, ‘যে ফুটবল ভালোবাসে, তার তো মেসিকে ভালো লাগবেই। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, আমি আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করব।’
কথোপকথনের মাঝেই এগিয়ে এলেন নিক্সনের স্ত্রী। আমার দেশের নাম শুনেই হাসিমুখে জানালেন, তাঁদের প্রতিবেশী এক ভারতীয় দম্পতির সঙ্গে তাঁদের দারুণ পারিবারিক সম্পর্ক। কাতার বিশ্বকাপেও ভারতীয়দের সঙ্গে তাঁদের সখ্য গড়ে উঠেছিল এবং ভবিষ্যতে তাঁরা ভারত ভ্রমণেও আগ্রহী।
সবই ঠিক ছিল, কিন্তু এরপর যদি ভারতের ফুটবল নিয়ে কোনও অস্বস্তিকর প্রশ্ন ধেয়ে আসে! সেই আশঙ্কায় আর এক মুহূর্ত না দাঁড়িয়ে, হাসিমুখে বিদায় নিয়ে দ্রুত নীল-সাদার ভিড়ে মিশে গেলাম।

