সৌরভ দেব ও পূর্ণেন্দু সরকার, জলপাইগুড়ি : ‘ভালো তৃণমূল’-এর তকমা গায়ে সঁাটাতে এবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে দেখা গেল জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়কে। শনিবার কলকাতায় ঋতব্রত টিমের এক বৈঠকে সৈকতকে এক কোণে বসে থাকতে দেখা গিয়েছে। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, ফিরহাদ হাকিম সহ তৃণমূলের একাধিক রাজ্য নেতৃত্ব। সেই বৈঠকের ছবি টিভি চ্যানেলে আসতেই সৈকতকে নিয়ে চর্চা শুরু হয়ে যায় পুরসভা থেকে শুরু করে শহরের অলিগলিতে। ঋতব্রতর মিটিংয়ে সৈকতকে দেখা যাওয়ায় তাঁরই ঘনিষ্ঠ কাউন্সিলাররা পুর চেয়ারম্যানের নীতি-আদর্শ নিয়ে প্রশ্ন তুলে সমাজমাধ্যমে সরব হয়েছেন। অনেককেই বলতে শোনা গিয়েছে, বিজেপির সঙ্গে সমঝোতা করতেই সৈকত এখন ঋতব্রতর টিমে গিয়ে ‘ভালো তৃণমূল’ হতে চাইছেন। যদিও এদিন সৈকত চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি জোড়াফুল প্রতীকেই জিতে চেয়ারম্যান হয়েছি। এখনও সেই জোড়াফুলেই আছি।’
সৈকত প্রসঙ্গে বিজেপির জেলা সহ সভাপতি বুবাই কর বলেন, ‘যে যেই শিবিরেই যান না কেন বিজেপিতে এঁদের জায়গা নেই। এই সমস্ত দুর্নীতিবাজ নেতাদের তাড়াতেই মানুষ বিজেপিকে ক্ষমতায় এনেছেন। ফলে তৃণমূলের দুর্নীতিবাজ নেতাদের কর্মফল ভোগ করতেই হবে।’
সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে ঋতব্রত শিবিরে যুক্ত হয়েছেন তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক খগেশ্বর রায়। তিনি ঋতব্রতর সঙ্গে বৈঠক করে এদিন সকালেই জলপাইগুড়ি ফিরেছেন। অন্যদিকে, মাল এবং ধূপগুড়ির কয়েকজন নেতার নামও শোনা যাচ্ছে যাঁরা ‘ভালো তৃণমূল’ সাজতে ঋতব্রত শিবিরের দিকে পা বাড়িয়ে রয়েছেন।
এর আগে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের ভূয়সী প্রশংসা একাধিকবার শোনা গিয়েছে সৈকতের মুখে। তৃণমূলের একাধিক কাউন্সিলারের ধারণা, সেটা ছিল সৈকতের সলতে পাকানোর পর্ব। এরমধ্যে সৈকত ঘনঘন কলকাতায় গিয়েছেন। সেটাও তঁার শিবির বদলের পথ মসৃণ করতে। এই কারণেই পুরসভা থেকে পরিষেবা দিতে হাজারো সমস্যা হলেও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একটিও মন্তব্য গত দুই মাসে শোনা যায়নি সৈকতের মুখে। যেখানে উত্তরবঙ্গের একাধিক পুরসভা এবং কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান, মেয়ররা পদত্যাগ করছেন সেই জায়গায় সরকারের প্রশংসা করে চেয়ার আগলে বসে রয়েছেন সৈকত। দিনকয়েক আগে কলকাতায় গিয়েছিলেন সৈকত। তবে তিনি ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছিলেন দিিল্ল যাচ্ছেন।
প্রশ্ন উঠেছে, ঋতব্রতর শিবিরে যাওয়ার পর এবার কী হবে সৈকতের। জানা গিয়েছে, ঋতব্রতর শিবিরে যাওয়ার বিষয়ে সৈকত দলের কাউন্সিলারদের সঙ্গে কোনও আলোচনা করেননি। আচমকা তঁার শিবির পরিবর্তন নিয়ে কাউন্সিলারদের মধ্যেও চাপা ক্ষোভ রয়েছে। সৈকত-ঘনিষ্ঠ তৃণমূল কাউন্সিলার নীলম শর্মা সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে লিখেছেন, ‘নীতি আদর্শ জলাঞ্জলি দিয়ে রাজনীতি করতে পারব না। আমি দিদির সঙ্গেই থাকব। কোনও বালিশ-চাটাকে নেতা মানতে পারব না। ইতি- খারাপ তৃণমূল।’ এখানেই শেষ নয়। জানা গিয়েছে, এক তৃণমূল কাউন্সিলার তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছেন, সোমবার তিনি পুরসভায় গিয়ে এই বিষয়টি নিয়ে সরব হবেন। পুরসভার চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিলের সদস্য তপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এটা ওঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হতে পারে। পুরসভায় দলগতভাবে এই ধরনের কোনও সিদ্ধান্ত এখনও পর্যন্ত হয়নি।’
প্রশ্ন উঠেছে এই পরিস্থিতিতে সৈকত তাঁর চেয়ারম্যান পদ আদৌ ধরে রাখতে পারবেন কি না তা নিয়ে। কারণ, এই পরিস্থিতিতে যদি কাউন্সিলারদের একটা বড় অংশ সৈকত-বিরোধী হয়ে ওঠে, সেক্ষেত্রে তাঁরা এক জোট হয়ে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে পারেন।

