উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যে বিদ্রোহের আগুন জ্বলেছিল, তা যেন এখন দাবানলের আকার ধারণ করেছে। একদিকে দলের ভরাডুবি, অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফেসবুক লাইভে দল ছাড়ার ইঙ্গিত—সব মিলিয়ে কালীঘাটের তৃণমূল এখন অস্তিত্ব সংকটে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা, খুব শীঘ্রই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদ্রোহী শিবিরে নাম লেখাতে চলেছেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু (Bratya Basu)।
২০২৬-এর ভোটে দমদম কেন্দ্র থেকে পরাজিত হওয়ার পর থেকেই ব্রাত্য বসুকে কার্যত জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছিল না। দীর্ঘ সময় লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকা এই হেভিওয়েট নেতার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছিল বিস্তর প্রশ্ন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূলের অন্দরের বর্তমান অস্থিরতায় ব্রাত্য বসু কি তবে কালীঘাটের সঙ্গ ছাড়ছেন? এমনকী ব্রাত্যর পাশাপাশি মানবাজারের প্রভাবশালী আদিবাসী নেত্রী সন্ধ্যারাণী টুডুও ঋতব্রত শিবিরের বিদ্রোহী জোটে যোগ দিতে পারেন বলে জোর খবর।
২০২৬ সালে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয়ের পর থেকেই দলে বিদ্রোহ দানা বাঁধে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে সামনে রেখে ৬০ জনেরও বেশি বিধায়ক বিদ্রোহী হয়ে উঠেছেন। তাঁরা নিজেদেরই আসল তৃণমূল কংগ্রেস বলে দাবি করছেন, যা নিয়ে বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে দুই পক্ষ। একদিকে সাংগঠনিক লড়াই, অন্যদিকে দলের অন্দরে নেতাদের দলবদল—তৃণমূলের অন্দরমহল কার্যত তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে।
শুধু বিধায়ক পর্যায়েই নয়, সংসদের অন্দরেও তৃণমূলের শক্তিক্ষয় স্পষ্ট। লোকসভার ২৮ জন সাংসদের মধ্যে প্রায় ১৯ থেকে ২০ জন সাংসদই এখন বিদ্রোহী শিবিরে। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে এই বিদ্রোহী সাংসদরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে চিঠি দিয়ে নিজেদের আলাদা গ্রুপ হিসেবে স্বীকৃতি চেয়েছেন এবং এনডিএ-কে সমর্থনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি, সুখেন্দুশেখর রায়, প্রকাশ চিক বরাইক, সুস্মিতা দেব এবং কোয়েলের মতো রাজ্যসভা সদস্যরা ইস্তফা দেওয়ায় কালীঘাটের নিয়ন্ত্রণ কার্যত হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে।
সম্প্রতি ফেসবুক লাইভে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং দল ছাড়ার বিষয়ে কঠোর বার্তা দিয়ে বলেছেন, “যাঁরা চলে যেতে চান, তাঁরা ২১ জুলাইয়ের আগেই লোটা-কম্বল নিয়ে চলে যান।” মমতার এই হুঁশিয়ারি কি তবে তৃণমূলের চূড়ান্ত পতনের ইঙ্গিত? এখন সেটাই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে।

