অনির্বাণ চক্রবর্তী, কালিয়াগঞ্জ: সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ভোট প্রচারে অন্যতম হাতিয়ার ছিল অনুপ্রবেশ (Border Infiltration)। ক্ষমতায় এসে বিজেপি কাঁটাতারে জোর দিয়ে জমিজট কাটাতে উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু কাঁটাতারের বেড়া টপকে ভারতে প্রবেশ করার অপরাধে বুধবার কালিয়াগঞ্জ থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করল দুই বাংলাদেশিকে। তাঁদের সহযোগিতা করার অপরাধে দক্ষিণ দিনাজপুরে বসবাসকারী দুই আত্মীয়কেও ধরেছে পুলিশ। গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে এদিন সকালে রাধিকাপুর সীমান্ত থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে ডালিমগাঁও এলাকা থেকে এই চারজনকে গ্রেপ্তার (Arrest) করে পুলিশ।
ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই বিএসএফের নজরদারি এড়িয়ে কাঁটাতারের সীমান্ত টপকে কীভাবে দুজন ভারতে প্রবেশ করলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল।
রাজ্যে পালাবদল ঘটলেও বন্ধ নেই অনুপ্রবেশ। বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলার বোঁচাগঞ্জ থানার বাসিন্দা গৌরব কর্মকার এবং বীরগঞ্জের পরিতোষ অধিকারীর গ্রেপ্তারের মধ্যে দিয়ে যা স্পষ্ট।
কালিয়াগঞ্জ থানার আইসি সুদীপকুমার প্রধান বলেন, ‘প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে না পারায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়৷ পাশাপাশি, দক্ষিণ দিনাজপুরের বাসিন্দা বংশীহারীর গৌরীপাড়ার বাসিন্দা উদয়ন কর্মকার এবং সুখদেব লোহরাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’ রাজ্যে অনুপ্রবেশকারীদের তোল্লা দেওয়ার অভিযোগ ছিল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। এখন রাজ্যপাট হারিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলের অবস্থানে থেকে কালিয়াগঞ্জ ব্লক তৃণমূল কনভেনার নিতাই বৈশ্যের প্রশ্ন, ‘বিজেপির ডাবল ইঞ্জিন সরকারের আমলেও কীভাবে অবৈধ অনুপ্রেবশকারীরা ভারতে ঢুকল? আসলে, এরা ভোটে ইস্যু তৈরি করতেই অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে এত বড় বড় কথা বলেছিল। এবার আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে এর জবাব বিজেপিকেই দিতে হবে।’ কালিয়াগঞ্জের বিধায়ক বিজেপির উৎপল ব্রহ্মচারীর বক্তব্য, ‘তৃণমূল আমলে রাজ্যে যে বিষবৃক্ষ রোপণ হয়েছিল, তার ছেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে সবে। আর ১০-১২ দিন সময় লাগবে। তারপর সমস্ত পাতলি গলি, ফুটো জাল চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। বিএসএফকেও কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে একজন অনুপ্রবেশকারীও ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে না পারে।’
