উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: রবিবার সন্ধ্যায় পরপর গুলির শব্দে কেঁপে উঠল বীরভূমের বোলপুর (Bolpur) পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ড। মতিপুকুর রাইস মিল সংলগ্ন রাস্তায় দুষ্কৃতীদের অতর্কিত গুলিতে খুন হলেন বিজেপির (BJP) এক বুথ সভাপতি। মৃত নেতার নাম চন্দন ভাল্লা। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার ভরসন্ধ্যায় ওই রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন বিজেপি নেতা (Chief) চন্দন ভাল্লা। সেই সময় হঠাৎই একটি বাইক তাঁর কাছে এসে থামে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাইকের পিছনে বসা এক দুষ্কৃতী খুব কাছ থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। মুহূর্তের মধ্যে হামলাকারীরা বাইক নিয়ে চম্পট দেয়।
গুলির শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং রক্তাক্ত অবস্থায় চন্দনকে উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি; চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে শোকে ভেঙে পড়া পরিবারের সদস্যরা দ্রুত হাসপাতালে ছুটে যান। মৃত নেতার দাদার দাবি, এটি স্পষ্টতই রাজনৈতিক শত্রুতার জেরে পরিকল্পিত খুন। তবে তিনি নির্দিষ্ট করে কারও নাম নেননি।
ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নমুনা সংগ্রহ করেছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে বয়ান রেকর্ড করেছে।
এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, পুরো ঘটনাটি ঘটতে মাত্র কয়েক সেকেন্ড সময় লেগেছিল। হামলাকারী বাইকে দু’জন ছিল এবং উভয়েরই মুখ ঢাকা ছিল। চালক বাইক সামলালেও পিছনের আসনে বসা ব্যক্তিটিই ঠান্ডা মাথায় গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়।
বোলপুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ঠিক কী কারণ রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক না অন্য কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা, তা জানতে সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তল্লাশি শুরু হয়েছে। তবে এই মুহূর্তে তদন্তের স্বার্থে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

