সামসী: ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ করতে গিয়ে ফের আক্রান্ত হতে হল এক সরকারি কর্মীকে (BLO Attacked)। মালদার চাঁচল-১ ব্লকের খরবা গ্রাম পঞ্চায়েতের নীচলামারি এলাকায় ১৯৩ নম্বর বুথের বিএলও (BLO) আনিসুর রহমানকে মারধরের অভিযোগ উঠল এক প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্যা ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে। বিএলও-কে বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর জখম হয়েছেন তাঁর ভাগনা নুরুল ইসলাম। বর্তমানে তিনি চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে (Chalsa Tremendous Specialty Hospital) চিকিৎসাধীন।
জানাগেছে, শুক্রবার দুপুরে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএলও আনিসুর রহমান কাজ করার সময় ওই বুথের একটি পরিবার এলাকায় না থাকায় তাদের শুনানির নোটিশ দিতে পারেননি। অভিযোগ, এলাকার প্রাক্তন কংগ্রেস পঞ্চায়েত সদস্যা সাজেদা বেওয়া ও তাঁর পরিবারের লোকেরা আনিসুরের কাছে সেই নোটিশ দাবি করেন। আনিসুরবাবু সাফ জানিয়ে দেন, নিয়মানুযায়ী যাঁর নোটিশ তাঁকেই দেওয়া হবে। এই নিয়ে বচসা শুরু হতেই সাজেদা, তাঁর স্বামী হোসেন আলি ও ভাই রবিউল ইসলামসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা বিএলও-র ওপর চড়াও হন।
আনিসুর রহমানকে আক্রমণ করতে দেখে তাঁকে বাঁচাতে ছুটে আসেন তাঁর ভাগনা নুরুল ইসলাম। অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা ইট দিয়ে আঘাত করে নুরুলের মাথা ফাটিয়ে দেয়। ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। আহত অবস্থায় নুরুলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার প্রেক্ষিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চাঁচল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন আক্রান্ত বিএলও।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। চাঁচল-১ ব্লক তৃণমূল সভাপতি শেখ আফসার আলি ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “বিএলও-দের ওপর হামলা বরদাস্ত করা হবে না। কংগ্রেস এই নোংরা রাজনীতি করছে। আমরা বিএলও-র পাশে আছি।”
অন্যদিকে, চাঁচল-১ ব্লকের কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কাজী আতাউর রহমান মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর পালটা দাবি, “এটি একটি গ্রাম্য বিবাদ মাত্র। তবে ওই বিএলও একটি নির্দিষ্ট দলের হয়ে কাজ করছেন এবং বেছে বেছে কংগ্রেস কর্মীদের নোটিশ দিতে গড়িমসি করছেন।”
চাঁচল থানার পুলিশ জানিয়েছে, বিএলও-র পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
