গুরুদেবের বীরভূমেই ভাঙল অচলায়তন, স্কুলে সরস্বতী আরাধনা অব্রাহ্মণ শিক্ষিকার

গুরুদেবের বীরভূমেই ভাঙল অচলায়তন, স্কুলে সরস্বতী আরাধনা অব্রাহ্মণ শিক্ষিকার

বৈশিষ্ট্যযুক্ত/FEATURED
Spread the love


নিয়মের বেড়াজাল ভাঙল। ধর্মের গোড়ামির বাধায় আটকে থাকল না বাগদেবীর আরাধনা। অব্রাহ্মণ পুরোহিতের পুজো-অর্চনায় সম্পূর্ণতা পেল সরস্বতীর আরাধনা। শুধু অব্রাহ্মণ নয়, বেড়া ভাঙল লিঙ্গবৈষম্যেরও। মন্ত্র উচ্চারণ করলেন মহিলা পুরোহিত। সংস্কৃত বিভাগের স্কুল শিক্ষিকার এই আরাধনা সামাজিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করল নানুরের কীর্ণাহারের শিবচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়।

আরও পড়ুন:

শুক্রবার, অঞ্জলি দেওয়ার সময় রীতিমতো আশ্চর্য হয়ে যান স্কুলের পড়ুয়ারা ও শিক্ষক, শিক্ষিকারা। বিদ্যা ও জ্ঞানের দেবীকে পুজো করেন স্কুলেরই সংস্কৃত শিক্ষিকা মোনালিসা রায়। মন্ত্রোচ্চারণের সঙ্গে গলা মিলিয়ে অঞ্জলি দিলেন বাকি পড়ুয়ারা।তবে প্রথাগত পৌরোহিত্য শিক্ষা নিয়ে নয়, পুজোর জন্যই নিজের আগ্রহেই মন্ত্র উচ্চারণ শিখেছেন। রপ্ত করেছেন পুজো-পদ্ধতিও। যেন সরস্বতীপুজোয় স্কুল প্রাঙ্গণকে একটি সামাজিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যম হিসাবে ব্যবহার করেন স্কুলেরই সংস্কৃত শিক্ষিকা।বিদ্যার আরাধনার সঙ্গে সঙ্গে মানবিক মূল্যবোধ ও ইতিবাচক চিন্তাভাবনাও সমান ভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে এবছর স্কুলের সরস্বতী পুজো। স্বভাবতই শিক্ষাঙ্গনে একটি অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন স্কুলের শিক্ষিকা।

মোনালিসা রায় বলেন, “গুরুদায়িত্ব পালন করেছি মাত্র। অব্রাহ্মণ হলেও বাড়িতে নিয়মিত নিত্যপুজো হয় দুর্গাপূজো সরস্বতী পুজো এবং মহাপ্রভুর। পুজোর আচার সম্পর্কে একেবারেই অজ্ঞ নই। তবে স্কুলের সহকর্মীদের ধন্যবাদ তাঁরা পাশে থেকেছেন।” শিক্ষিকার সাহসিকতায় খুশি হয়েছেন পরিবারের সদস্যরা, স্কুলের সহকর্মীরা ও পড়ুয়ারা। স্কুলের ইংরেজি শিক্ষক অরুণ রায় বলেন, “বাগ্‌দেবীর আরাধনায় বৈষম্যের বেড়া ভাঙার বার্তা দিয়েছেন স্কুলেরই সংস্কৃত শিক্ষিকা। লিঙ্গ বৈষম্য, জাতি বৈষম্য দূর করারই দৃষ্টিভঙ্গি ফুটে উঠেছে বাগদেবীর আরাধনায়।”

আরও পড়ুন:

স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা অভিনন্দা বৈরাগী বলেন,” এতদিন পুজো করতেন স্কুলেরই একজন শিক্ষক। তিনি অবসর নেওয়ায় আমরা সমস্যায় পড়েছিলাম। পরিচালন সমিতি এবং সরস্বতী পুজো কমিটি সিদ্ধান্ত নেয়, এবছর সরস্বতী পুজো করবেন স্কুলেরই সংস্কৃত শিক্ষিকা।” জাতপাতের বিভেদ ও লিঙ্গবৈষম্য রুখতে এমন দৃষ্টান্তমূলক সরস্বতী পুজো দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে কীর্ণাহার। স্কুলের পরিচালন সমিতির সম্পাদক মনোজ ঘোষ বলেন, “জাতি ধর্ম-বর্ণ এবং লিঙ্গ বৈষম্য দূর করেছেন স্কুলের শিক্ষিকা। তার মন্ত্র উচ্চারণ এবং পুজো পদ্ধতি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।”

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *