ফালাকাটা: বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে গোপন আঁতাতের অভিযোগ তুলে শুক্রবার রণক্ষেত্র হয়ে উঠল ফালাকাটা ২ গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস (BJP-TMC Secret Alliance Allegations)। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধে তৃণমূলের সঙ্গে গোপন বৈঠকের অভিযোগ তুলে এদিন বিক্ষোভ দেখান বিজেপির সাধারণ কর্মী-সমর্থকরা। এই বিক্ষোভের জেরে শেষপর্যন্ত বোর্ড গঠন প্রক্রিয়া ভেস্তে যায়।
১৮ আসন বিশিষ্ট এই পঞ্চায়েতে বিজেপির সদস্য সংখ্যা তিন। সম্প্রতি তৃণমূলের প্রধান রবিকুমার মিঞ্জ পদত্যাগ করায় শুক্রবার নতুন বোর্ড গঠনের দিন ধার্য করা হয়েছিল। কিন্তু এদিন সকালে খবর রটে যে, বিজেপির ফালাকাটা ৩ নম্বর মন্ডলের কিছু নেতা গোপনে তৃণমূলের সঙ্গে বৈঠক করে একটি ‘সেটিং’ করেছেন। অভিযোগ, সেই চুক্তি অনুযায়ী বিজেপির একজনকে প্রধান ও তৃণমূলের একজনকে উপপ্রধান করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এই খবর জানাজানি হতেই কয়েকশো বিজেপি কর্মী-সমর্থক পঞ্চায়েত অফিসের সামনে ভিড় করেন এবং দলের ওই মন্ডল নেতাদের অফিসে ঢুকতে বাধা দেন।
বিজেপি কর্মীদের দাবি, তৃণমূলের সঙ্গে কোনো অবস্থাতেই সমঝোতা করা চলবে না। বিজেপি থেকেই প্রধান ও উপপ্রধান মনোনীত করতে হবে। এদিকে, রাজনৈতিক এই উত্তাপ ও বিজেপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে তৃণমূলের ১৫ জন সদস্যই এদিন পঞ্চায়েত অফিসে আসেননি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোরাম পূর্ণ না হওয়ায় এবং প্রধান নির্বাচন সম্ভব না হওয়ায় প্রশাসন বোর্ড গঠন প্রক্রিয়া মুলতবি রাখতে বাধ্য হয়।
নিজেদের দলের কর্মীদের এই বিক্ষোভে রীতিমতো অস্বস্তিতে পড়েন বিজেপির ৩ নম্বর মন্ডলের শীর্ষ নেতারা। তবে বিজেপির মন্ডল সভাপতি রণজিত মুন্ডা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “গোপন সেটিং বা আঁতাতের কোনো অভিযোগ আমার জানা নেই। মূলত তৃণমূলের সদস্যরা এদিন অফিসে না আসাতেই বোর্ড গঠন করা সম্ভব হয়নি।”
তৃণমূলের সদস্যরা এদিন কেন অনুপস্থিত থাকলেন এবং বিজেপির কর্মীদের এই অভিযোগ কতটা ভিত্তিহীন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। আপাতত ফালাকাটা ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠন ঘিরে তৈরি হওয়া এই অচলাবস্থা কবে কাটবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

