উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: বঙ্গ রাজনীতির সমীকরণকে আরও একবার ওলটপালট করে দিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে বড়সড়ো চমক দিল ভারতীয় জনতা পার্টি। তৃণমূলে (TMC) দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক—এই তিন প্রাক্তন সাংসদ বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে গেরুয়া শিবিরে যোগ দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁদের রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা করল বিজেপি (BJP Rajya Sabha candidates)। দলবদলের নাটকীয়তা এবং ঠিক তার পরপরই রাজ্যসভার টিকিট পাওয়ার ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার সল্টলেকের বিজেপি (BJP) কার্যালয়ে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে এই তিন নেতা বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নেন। বিধানসভার সাম্প্রতিক নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পরই এই তিন সাংসদ তাঁদের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। সুখেন্দুশেখর রায় ও প্রকাশ চিক বরাইকের মেয়াদ ২০২৯ এবং সুস্মিতা দেবের মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত ছিল। তাঁদের ইস্তফার ফলে শূন্য হওয়া তিনটি আসনেই আগামী ২৪ জুলাই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিচারে এই তিন আসন যে বিজেপির দখলেই যাচ্ছে, তা কার্যত নিশ্চিত। এমনকি তৃণমূলের ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও স্বীকার করে নিয়েছেন যে, বর্তমান সমীকরণে এই আসনগুলিতে তৃণমূলের প্রার্থী দেওয়ার সম্ভাবনা নেই। অর্থাৎ, তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া এই তিন নেতা কার্যত একই পদে কিন্তু নতুন প্রতীকে ফের সংসদে ফিরতে চলেছেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের অন্দরে ক্রমবর্ধমান মতবিরোধ বা কোণঠাসা হয়ে পড়ার কারণেই এই তিন অভিজ্ঞ রাজনীতিক দলত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিজেপির এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিজেপির শক্তি বৃদ্ধিতে এবং সংসদের উচ্চকক্ষে তৃণমূলকে চাপে রাখতে এই তিন নেতার অভিজ্ঞতাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাইছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
দলবদলের পর এত দ্রুত প্রার্থী হওয়ার ঘটনা যেমন বিজেপির আগ্রাসী রণকৌশলের পরিচয় দেয়, তেমনই তৃণমূলের জন্য এটি বড়সড়ো ধাক্কা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তবে এই দলবদল এবং তাৎক্ষণিক পুরস্কারপ্রাপ্তি রাজ্যের রাজনীতির প্রেক্ষাপটে নতুন কোনো মেরুকরণের সূচনা কি না, তা নিয়ে এখন নানা জল্পনা শুরু হয়েছে।

