BJP | ডুয়ার্সের রাজনীতিতে বড় ধাক্কা তৃণমূলের! আংরাভাসা পঞ্চায়েত দখল করল বিজেপি

শিক্ষা
Spread the love


নাগরাকাটা: ডুয়ার্সের (Dooars) রাজনীতিতে বড় রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটিয়ে নাগরাকাটার (Nagrakata) আংরাভাসা ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত দখল করল বিজেপি (BJP)। গত ১৪ সেপ্টেম্বর অনাস্থা ভোটাভুটিতে আগের প্রধান শান্তি ছেত্রী পরাজিত হওয়ার পর মঙ্গলবার নতুন বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এই দিন আয়োজিত বিশেষ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে নতুন প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হন গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে জয়ী হওয়া দুর্গা শর্মা। দীর্ঘদিনের এই শক্তিশালী রাজনৈতিক ঘাঁটিতে পদ্মফুল ফোটায় উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন স্থানীয় কর্মী-সমর্থকরা। বিজয়ী উল্লাসের অঙ্গ হিসেবে এলাকায় ব্যান্ড পার্টি বাজিয়ে বর্ণাঢ্য বিজয় মিছিল বের করা হয়। নবনির্বাচিত গ্রাম পঞ্চায়েত প্রতিনিধিরা উপস্থিত সাধারণ মানুষকে প্রণাম জানিয়ে আগামীদিনে এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নে নিজেদের উৎসর্গ করার অঙ্গীকার করেন। নতুন প্রধান দুর্গা শর্মা জানান যে, সকলকে সঙ্গে নিয়েই তিনি আগামীদিনে উন্নয়নের পথে হাঁটবেন এবং এলাকার বহু অসমাপ্ত কাজ দ্রুত সম্পন্ন করবেন।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত নির্বাচনে এই আংরাভাসা ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের দখল নিজেদের হাতে রেখেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। মোট ১৫ টি আসন বিশিষ্ট এই বোর্ডে সে সময় তৃণমূল লাভ করেছিল ৮ টি আসন, আর রাজনৈতিকভাবে বিজেপির শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত এই অঞ্চলে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর পদ্ম শিবির পেয়েছিল ৭ টি আসন। তবে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নতুন বোর্ড গঠনের এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় নাটকীয় মোড় নেয়। বিজেপির সমস্ত সদস্যের পাশাপাশি তৃণমূলের টিকিট জয়ী এক জন সদস্যও এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, অন্যদিকে তৃণমূলের বাকি সাত জন সদস্য এদিন অনুপস্থিত থাকেন। ফলে প্রয়োজনীয় গরিষ্ঠতার ম্যাজিক ফিগার ছুয়ে মোট ৮ জন সদস্যের সমর্থন নিয়ে প্রধান পদে দুর্গা শর্মার আসন পাকা হয়ে যায়। উল্লেখ্য, এই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান পদটি মহিলা সংরক্ষিত হওয়ায় বিজেপির দুর্গা শর্মা ছাড়াও মমতা ওরাওঁ, কণিকা মণ্ডল, সঙ্গীতা রায় এবং প্রতিমা মণ্ডলদের মতো আরও চার জন মহিলা সদস্য এই জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

নতুন বোর্ড গঠনের এই সভাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছিল নাগরাকাটা জুড়ে। সভা শেষে উপস্থিত সকলকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান গেরুয়া শিবিরের নাগরাকাটা ২ নম্বর মণ্ডল কমিটির সভাপতি মান্না দে এবং এলাকার প্রভাবশালী নেতা কিশোর ছেত্রী সহ অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্ব। এ দিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনোজ ভুজেল দাবি করেন যে, তৃণমূল কংগ্রেসের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার মাধ্যমেই এই গ্রাম পঞ্চায়েতটি প্রকৃত অর্থে শাপমোচন ঘটাল। সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার এবং এলাকার সুষম উন্নয়নের কাজ এবার থেকে স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়িত হবে বলেই তিনি আশাপ্রকাশ করেন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *