বর্ধমান: সাইবার অপরাধী ও অনলাইন জালিয়াতদের মূল টার্গেট এখন রাজ্যের বিজেপি বিধায়করা। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের ‘সিনিয়র ম্যানেজার’ পরিচয় দিয়ে বিধায়কদের ফোন করে (BJP MLAs focused cyber fraudsters) বেকার যুবক-যুবতীদের চাকরি দেওয়ার লোভ দেখিয়ে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা চালাচ্ছে প্রতারকরা। ইতিমধ্যেই রাজ্যের একাধিক বিধায়ককে এইভাবে ফোন করা হয়েছে এবং অনেককে প্রতারিতও করা হয়েছে বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। তবে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের বিজেপি বিধায়ক অরুণ হালদারকে ফাঁদে ফেলতে গিয়ে শেষরক্ষা হয়নি। উলটে প্রতারকের বিরুদ্ধে জামালপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বিধায়ক। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, বিধায়কের কাছে আসা ওই ফোন কলটি উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুর থেকে করা হয়েছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জামালপুরের বিধায়ক অরুণ হালদারের ঘনিষ্ঠ সৌমেন ঘোষ সম্প্রতি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে জানানো হয়, গত বৃহস্পতিবার দুপুর ও বিকেলের দিকে বিধায়কের নম্বরে দুটি ফোন আসে। নিজেকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের ‘সিনিয়র ম্যানেজার’ পরিচয় দিয়ে ওই ব্যক্তি জানায় যে, বিধায়কের নির্বাচনী এলাকার বেকারদের জন্য তিনটি চাকরির সুযোগ রয়েছে। উপযুক্ত প্রার্থীদের বায়োডাটা এবং ব্যক্তিগত তথ্য পাঠানোর অনুরোধ করার পাশাপাশি প্রতি মাসে ৪৫ হাজার টাকা করে বেতনের লোভও দেখানো হয়।
তবে ফোনালাপেই ওই ব্যক্তির কথা শুনে সন্দেহ হয় বিধায়ক অরুণ হালদারের। তিনি বুঝতে পারেন যে, বিধায়ক পদকে সামনে রেখে এলাকার সাধারণ মানুষকে প্রতারণা করাই ছিল ওই জালিয়াতদের মূল উদ্দেশ্য। এই ঘটনায় বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের গন্ধ পেয়ে সঙ্গে সঙ্গেই থানায় অভিযোগ জানানো হয়। পাশাপাশি, লখনউয়ের চক থানায় বিধায়কের ছেলের করা একটি পুরোনো মামলার (২৬১/২০২৫) সঙ্গে বর্তমান এই ফোন কলের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখারও আবেদন জানানো হয়েছে।
শুধু অরুণ হালদার একাই নন, মেমারির বিধায়ক মানব গুহ এবং ভাতারের বিধায়ক সৌমেন কার্ফাও স্বীকার করেছেন যে তাঁদের কাছেও এই ধরনের ফোন এসেছিল। তাঁরাও বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছেন। এদিকে বিজেপি সূত্রে খবর মিলেছে, অনেক বিধায়ক বিষয়টি বুঝতে না পেরে প্রতারকদের পাঠানো ‘হোয়াটসঅ্যাপ’ নম্বরে ইতিমধ্যেই তিন-চার জন প্রার্থীর বায়োডাটা পাঠিয়ে দিয়ে এখন অনুশোচনা করছেন।
পুলিশের অনুমান, বিধায়কদের বিশ্বস্ততাকে ব্যবহার করে চাকরিপ্রার্থীদের কাছে সহজেই পৌঁছাতে চাইছে এই সাইবার গ্যাং। বিধায়করা নিজেদের প্যাডে সুপারিশ করে নাম পাঠালে সাধারণ মানুষের মনে কোনো সন্দেহ তৈরি হবে না এবং এই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়াই ছিল প্রতারকদের আসল মতলব। বর্তমানে ওই ফোন নম্বরের সূত্র ধরে উত্তরপ্রদেশ সহ বিভিন্ন জায়গায় সাইবার অপরাধীদের সন্ধান পেতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

