উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: মকর সংক্রান্তির পুণ্যলগ্নে নন্দীগ্রামের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। বুধবার স্থানীয় গাংড়াচরের গঙ্গামন্দিরে পুজোর পর প্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে কার্যত রাজনৈতিক হাতেখড়ি হলো বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (BJP Chief Shuvendu Adhikari) ভাইপো দেবদীপ অধিকারীর। আগামীকাল, বৃহস্পতিবার নন্দীগ্রামে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) ‘সেবাশ্রয়’ স্বাস্থ্য শিবিরে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। তার ঠিক আগের দিন নিজের নির্বাচনী ক্ষেত্রে ভাইপোকে জনসমক্ষে এনে শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত কৌশলী রাজনৈতিক চাল দিলেন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এদিন ঝাড়গ্রামের কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার আগে শুভেন্দু তাঁর বড় ভাই কৃষ্ণেন্দু অধিকারীর পুত্র দেবদীপকে নিজের প্রতিনিধি হিসেবে জনতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেন। দেবদীপ পেশায় আইনের ছাত্র এবং ছোটবেলা থেকেই তাঁর মেজ কাকা শুভেন্দুর অত্যন্ত অনুগামী ও ছায়াসঙ্গী হিসেবে পরিচিত।
এতদিন শুভেন্দু নিজে কোনও কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকতে না পারলে তাঁর সেজ ভাই তথা প্রাক্তন সাংসদ দিব্যেন্দু অধিকারীকে পাঠাতেন। কিন্তু এই প্রথম সেই জায়গায় দেবদীপকে দায়িত্ব দেওয়া জেলা রাজনীতিতে নতুন চর্চার জন্ম দিয়েছে। এদিন গঙ্গা মন্দিরে পুজো দিয়ে কপালে তিলক কেটে দেবদীপকে সাধারণ মানুষের হাতে খিচুড়ি ভোগ তুলে দিতে দেখা যায়। যদিও বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সরাসরি যোগ নেই। তমলুক সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি মলয় সিনহার মতে, মকর সংক্রান্তির পুণ্যলগ্নে প্রসাদ বিতরণ একটি সামাজিক ও ধর্মীয় কাজ এবং দেবদীপ একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবেই সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র কটাক্ষ হেনেছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। নন্দীগ্রামের তৃণমূল নেতা বাপ্পাদিত্য গর্গ দাবি করেছেন যে, শুভেন্দু অধিকারী আসলে ‘ভাইপো আতঙ্কে’ ভুগছেন এবং নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতেই বাড়ির ছেলেকে মাঠে নামাচ্ছেন। যে শুভেন্দু প্রতিনিয়ত তৃণমূলের ‘পিসি-ভাইপো’ বা পরিবারবাদ নিয়ে সরব হন, তিনি নিজেই কেন নিজের ভাইপোকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে শামিল করছেন—সেই প্রশ্ন তুলে তৃণমূল শিবির কড়া খোঁচা দিয়েছে। সব মিলিয়ে, মকর সংক্রান্তির সকালে নন্দীগ্রামের মাটিতে দেবদীপের এই উপস্থিতি আগামী দিনে অধিকারী পরিবারের নতুন উত্তরসূরির আগমনের বার্তাই দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
