উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ২০২৬ সালের মধ্যে দেশ মাওবাদী মুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে কেন্দ্র। সেই লক্ষ্যপূরণেই ছত্তিশগড়ের (Chhattisgarh Information) জঙ্গলে সাঁড়াশি অভিযান জারি রেখেছে নিরাপত্তাবাহিনী। বৃহস্পতিবার বিজাপুরের (Bijapur Encounter) এক জঙ্গলে নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ গুলির লড়াইয়ে মৃত্যু হলো দুই মাওবাদীর। ঘটনাস্থল থেকে অত্যাধুনিক অস্ত্র ও প্রচুর পরিমাণে বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে ডিস্ট্রিক্ট রিজার্ভ গার্ড (DRG) এবং পুলিশের যৌথবাহিনী।
জঙ্গলজুড়ে গুলির লড়াই
পুলিশ সূত্রে খবর, বিজাপুরের দক্ষিণ প্রান্তের একটি জঙ্গলে মাওবাদীদের জমায়েতের গোপন খবর পায় প্রশাসন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার তল্লাশি অভিযানে নামে যৌথবাহিনী। বাহিনীকে জঙ্গলে ঢুকতে দেখেই এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে মাওবাদীরা। পাল্টা জবাব দেয় বাহিনীও। বেশ কিছুক্ষণ সংঘর্ষ চলার পর এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় মাওবাদীরা। পরে তল্লাশি চালিয়ে দুই মাওবাদীর নিথর দেহ (Maoist Killed) উদ্ধার হয়। মৃতদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি একে-৪৭ রাইফেল, ৯ এমএম পিস্তল এবং বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে।
কোণঠাসা মাওবাদী সংগঠন
গত কয়েক মাসে বিজাপুরে মাওবাদী সংগঠনের কোমর কার্যত ভেঙে দিয়েছে প্রশাসন। গত ১৫ জানুয়ারি এই জেলাতেই ৫২ জন মাওবাদী একসঙ্গে আত্মসমর্পণ করেছিল, যাদের মাথার ওপর ছিল লক্ষ লক্ষ টাকার পুরস্কার। গত বছর রাজ্যজুড়ে অভিযানে ২৮৫ জন মাওবাদী খতম হয়েছিল। চলতি বছরের ৩ জানুয়ারিও বস্তারে ১৪ জন মাওবাদীর মৃত্যু হয়েছে।
২০২৬-এর মধ্যে ‘মাওবাদী মুক্ত’ ভারত
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ১০ বছরে ১৮৬১ জন মাওবাদী নিহত হয়েছে এবং ১৬ হাজারেরও বেশি মাওবাদীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে দেশকে মাওবাদী মুক্ত করার যে প্রতিশ্রুতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা দিয়েছিলেন, বিজাপুরের এই সংঘর্ষ সেই পথেই বড় সাফল্য বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। বর্তমানে ওই জঙ্গলে আরও মাওবাদী লুকিয়ে আছে কি না, তা জানতে চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছে বিশেষ বাহিনী।
