উত্তর সিকিমে বরফের ‘মৃত্যুফাঁদে’ আটকে পড়েন ২৮ পর্যটক! ‘অপারেশন’ চালিয়ে ২৪ ঘণ্টা পর উদ্ধার

উত্তর সিকিমে বরফের ‘মৃত্যুফাঁদে’ আটকে পড়েন ২৮ পর্যটক! ‘অপারেশন’ চালিয়ে ২৪ ঘণ্টা পর উদ্ধার

সিনেমা/বিনোদন/থিয়েটার
Spread the love


ফের ‘ব্ল্যাক আইস’-এর মরণ ফাঁদ! বুধবার হঠাৎ তুষারপাতের জেরে উত্তর সিকিমের উঁচু এলাকায় তৈরি এমনই মরণফাঁদে আটকে পড়া ২৮ জন পর্যটক উদ্ধার। সেনাবাহিনী, সিকিম পুলিশ এবং লাচুং হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের কর্মীরা যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ পর্যটকদের উদ্ধার করে লাচুংয়ে নামিয়ে আনে। বৃহস্পতিবার দলটি গ্যাংটকে ফিরে যায় বলে খবর।

লাচুং জোমসা হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের তরফে বৃহস্পতিবার প্রেস বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বুধবার রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ অক্লান্ত পরিশ্রম করে জিরো পয়েন্ট থেকে ২৮ জন পর্যটককে উদ্ধার করা হয়েছে। ওই পর্যটকদের মধ্যে ছিলেন ২০ জন পুরুষ, ৮ জন মহিলা ও শিশু। আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৫ হাজার ৩০০ ফুট উঁচু উত্তর সিকিমের জিরো পয়েন্টে বুধবার বিকেল থেকে বৃষ্টির সঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি তুষারপাত চলছে। জিরো পয়েন্ট স্থানীয় ভাষায় ইউমেসামডং নামে পরিচিত। এখানে অক্সিজেনের মাত্রা বেশ কম হলেও তুষারপাতের মজা নিতে বুধবার প্রচুর পর্যটক পৌঁছে গিয়েছিলেন। তুষারপাত হয়েছে লাচুং, লাচেন, ইয়ুমথাং উপত্যকা এবং গুরুদংমার হ্রদের উঁচু এলাকাতেও। হঠাৎ তুষারপাতের ফলে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে পড়ে। তৈরি হয় ‘ব্ল্যাক আইস’-এর মরণফাঁদ।

আরও পড়ুন:

28 tourists trapped in snow in North Sikkim, rescued by army, administration28 tourists trapped in snow in North Sikkim, rescued by army, administration
আটকে পর্যটকরা।

কিন্তু কি সেই ব্ল্যাক আইস, যা এতটাই বিপজ্জনক? আবহাওয়া দপ্তরের কর্তারা জানান, ব্ল্যাক আইস মোটেও কালো বরফ নয়। সেটি আদপে রাস্তার উপরে জমে থাকা স্বচ্ছ্ব বরফের পাতলা আস্তরণ। খালি চোখে মনে হয় সাধারণ ভেজা রাস্তা। অত্যন্ত পিচ্ছিল এবং প্রায় অদৃশ্য হওয়ায় গাড়ি চালক ও পথচারীদের জন্য মারাত্মক বিপজ্জনক এই ব্ল্যাক আইস। সাধারণত তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে নামলে এটি তৈরি হয়। বুধবার জিরো পয়েন্টের দিকে যাওয়া পর্যটকদের তিনটি গাড়ি ব্ল্যাক আইসের জন্য রাস্তায় আটকে পড়ে। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে গাড়ি চালকরা ফোন করে সেনাবাহিনীর ত্রিশক্তি কর্পসের সাহায্য চায়। খবর পেয়ে গাড়িতে থাকা ১৩ জন পর্যটককে নিরাপদে উদ্ধার করে একটি শিবমন্দিরে পৌঁছে দেয় সেনাবাহিনীর জওয়ানরা।

উদ্ধারকাজে সেনার পাশাপাশি সাহায্যে নামে বর্ডার রোড অর্গানাইজেশন, সিকিম পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন এবং লাচুং জোমসা হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা। সেখান থেকে তাদের স্থানীয় আর্মি রেসকিউ ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়৷ ক্যাম্পে সেনাবাহিনীর তরফে পর্যটকদের থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। বৃহস্পতিবার তাদের আবার গ্যাংটকে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়। সেনাবাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে পর্যটকদের স্বাস্থ্যের অবস্থা স্বাভাবিক আছে।

লাচুং জোমসা হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের প্রেস বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, পর্যটক এবং গাড়ি চালকদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব জিরো পয়েন্ট থেকে নেমে যেতে বলা হয়েছে। কারণ আবহাওয়া খারাপ। তাপমাত্রা শূন্যের নিচে নেমে গেলে ব্ল্যাক আইস অর্থাৎ কালো বরফ তৈরি হলেই বিপদ বাড়বে। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত আটকে থাকা গাড়িগুলো উদ্ধারের কাজ চলে। বিআরও এবং প্রশাসনের দল আর্মি ট্রাক, জেসিবি ও আর্থ মুভারের সাহায্যে বরফ সরিয়ে রাস্তায় যান চলাচল স্বাভাবিক করার কাজ করে।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *