উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: স্কুলের চার দেওয়ালের মাঝে যে স্নেহের পরশ পাওয়ার কথা ছিল, সেখানেই চরম অপমান আর অপবাদের শিকার হয়ে চিরতরে হারিয়ে গেল অষ্টম শ্রেণির এক কিশোরী! বেঙ্গালুরুর (Bengaluru) একটি স্কুলের ঘটনা। জানা গিয়েছে, চুরির অপবাদ সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় সে। নিজের ঘর থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার মূলে উঠে এসেছে হেনস্তার অভিযোগ।
জানা গিয়েছে, স্কুলের (College Harassment) টাকা চুরির অভিযোগে ওই পড়ুয়াকে দিনের পর দিন অভিযুক্ত করা হচ্ছিল। এমনকি স্কুল থেকে বহিষ্কারের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল তাকে। এই মানসিক চাপ আর অপমান সে মেনে নিতে পারেনি। মৃত্যুর আগে সে তার মায়ের উদ্দেশ্যে একটি মর্মস্পর্শী চিঠি লিখে রেখে গিয়েছে, যা এখন তদন্তের মূল হাতিয়ার। চিঠিতে পড়ুয়া স্পষ্ট লিখেছে, ‘‘স্কুলে যা হয়েছে তার জন্য আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। টাকা চুরির মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে আমার বিরুদ্ধে। কিন্তু আমি চুরি করিনি মা। সব শিক্ষক আমাকে বকাবকি করতেন। এই অপমান আর সহ্য করতে পারছি না।’’
পড়ুয়ার মায়ের অভিযোগ, শিক্ষকরা তাঁর মেয়েকে ধারাবাহিকভাবে হেনস্তা করছিলেন। বিষয়টি সে বাড়িতে কাউকে না জানালেও নিজের বোনকে খুলে বলেছিল। স্কুলের কঠোর আচরণ এবং ক্রমাগত মিথ্যা অপবাদ কিশোরীর কোমল মনে গভীর ক্ষত তৈরি করেছিল, যার পরিণতি এই চরম পথ। ঘটনার পর থেকেই এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। পরিবারের দাবি, স্কুলের শিক্ষকদের কঠোর মানসিক নির্যাতনই পড়ুয়াকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে। এটি কেবল একটি অস্বাভাবিক মৃত্যু নয়, বরং প্ররোচনার মামলা হওয়া উচিত বলে দাবি তুলেছেন তারা।
ইতিমধ্যেই পুলিশ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। কিশোরীর হাতে লেখা সেই চিরকুটটি উদ্ধার করা হয়েছে। যদিও এবিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, খুব দ্রুতই স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলা হবে। ঘটনার তদন্ত করছে পুলিশ (Police)।

