উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ সেদিন বেঙ্গালুরুতে ধোনি ম্যাজিক দেখেছিল ক্রিকেটবিশ্ব, আর আজ দক্ষিণ আফ্রিকায় অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ধরা দিল সেই একই নাটকের পুনরাবৃত্তি। জেতা ম্যাচ কীভাবে হারতে হয়, তার এক করুণ প্রদর্শনী দেখাল বাংলাদেশ। ৭০ বলে হাতে দরকার মাত্র ৭৫ রান, উইকেটে তখনও ৮ জন—এমন সহজ সমীকরণ থেকেও হার মানতে হলো বাংলাদেশের যুবাদের। ১৮ রানে নাটকীয় জয় ছিনিয়ে নিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের গ্রুপ শীর্ষে পৌঁছে গেল টিম ইন্ডিয়া।
ধ্বংসের শুরু বৃষ্টির পর: ২২ রানে নেই ৭ উইকেট!
ম্যাচের শুরুতে বৃষ্টির দাপটে যখন খেলা থমকে গিয়েছিল, তখন মনে হচ্ছিল ম্যাচটি ভারতের হাত থেকে ফসকে গিয়েছে। কিন্তু খেলা পুনরায় শুরু হতেই ছবিটা পালটে যায় সম্পূর্ণ। ভারতের স্পিনারদের ঘূর্ণিতে খেই হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশের মিডল অর্ডার। চাপের মুখে ব্যাটিং বিপর্যয় কাকে বলে, তা হাড়ে হাড়ে টের পেল ওপার বাংলার ক্রিকেটাররা।
• ধস: শেষ ২২ রান যোগ করতেই বাংলাদেশ হারায় তাদের শেষ ৭টি উইকেট।
• দাপট: কঠিন মুহূর্তে ভারতীয় বোলাররা ডট বলের চাপ তৈরি করে বাংলাদেশি ব্যাটারদের ভুল করতে বাধ্য করেন।
এক ক্যাচেই ঘুরল ম্যাচের মোড়!
ম্যাচের অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট ছিল বাউন্ডারিতে বৈভব সূর্যবংশীর অবিশ্বাস্য একটি ক্যাচ। ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে সূর্যকুমার যাদব যেভাবে বাউন্ডারি লাইনে ভারতের জন্য ট্রফি বাঁচিয়েছিলেন, বৈভবের ক্যাচটি যেন ছিল তারই কার্বন কপি। এই একটি মুহূর্তই বাংলাদেশের জয়ের শেষ আশাটুকু কেড়ে নেয়।
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি! ২০১৬ বনাম ২০২৬
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ম্যাচটি ২০১৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেই স্মৃতি ফিরিয়ে দিল, যেখানে ভারতের বিরুদ্ধে ৩ বলে ২ রান করতে ব্যর্থ হয়েছিল বাংলাদেশ। আজ দশ বছর পর আবারও সেই একই ‘চোকিং’ প্রবণতা দেখা গেল তাদের মধ্যে। ডাকওয়ার্থ-লুইস (DLS) নিয়মে শেষ পর্যন্ত ১৮ রানে জয়ী ঘোষিত হয় ভারত।
