উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: গৃহযুদ্ধের ক্ষত এখনও দগদগে। তার মধ্যেই ফের রক্তক্ষরণ সিরিয়ায়। শুক্রবার জুম্মার নামাজের সময় সিরিয়ার হোমসে একটি মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের (Syria Mosque Explosion) ঘটনা ঘটল। এই হামলায় এখনও পর্যন্ত অন্তত ৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। সংবাদসংস্থা এএফপি এবং সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সানা (SANA) সূত্রে খবর, বিস্ফোরণটি ঘটেছে হোমসের ওয়াদি আল-ধাহাব এলাকায় অবস্থিত ইমাম আলি বিন আবি তালিব মসজিদে। এলাকাটি মূলত আলাউই সম্প্রদায় অধ্যুষিত, যা সিরিয়ার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের নিজস্ব সম্প্রদায় হিসেবে পরিচিত।
শুক্রবার দুপুরে যখন মসজিদে জুম্মার নামাজ চলছিল, ঠিক সেই সময়েই জোরালো বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে এলাকা। সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, এটি একটি পরিকল্পিত সন্ত্রাসবাদী হামলা। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, মসজিদের ভেতরেই আগে থেকে বিস্ফোরক বা ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (IED) পুঁতে রাখা হয়েছিল। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে মসজিদের জানলার কাচ চুরমার হয়ে যায় এবং দেওয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ছবিতে দেখা গিয়েছে, মসজিদের কার্পেটে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে রক্ত এবং ধ্বংসস্তূপ।
এই হামলার নেপথ্যে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের ছায়া দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। ওয়াদি আল-ধাহাব এলাকাটি আলাউই বা আলাভি মুসলিম অধ্যুষিত। সিরিয়ায় সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাঝে আলাউইরা একটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। গত বছর বাশার আল-আসাদ সরকারের পতন এবং সুন্নি নেতৃত্বাধীন সরকারের ক্ষমতা দখলের পর থেকেই সিরিয়া জুড়ে নতুন করে সাম্প্রদায়িক হিংসার বাতাবরণ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আলাউই সম্প্রদায়ের ওপর একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই বিস্ফোরণ সেই প্রতিহিংসার রাজনীতিরই অংশ কিনা, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।
সিরিয়ার বিদেশ মন্ত্রক এই ঘটনাকে “কাপুরুষোচিত অপরাধমূলক কাজ” বলে নিন্দা করেছে। মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, সন্ত্রাসবাদ দমনে সরকার কঠোর অবস্থান নেবে। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে নিরাপত্তা বাহিনী এবং অপরাধীদের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। স্থানীয় হাসপাতালের সূত্রে খবর, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
২০২৫ সালটি সিরিয়ার জন্য অত্যন্ত অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে কাটছে। একদিকে রাজনৈতিক পালাবদল, অন্যদিকে ইসলামিক স্টেট (ISIS)-এর মতো জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা—সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এখন বড় প্রশ্নের মুখে। শুক্রবারের এই হামলা প্রমাণ করল যে, আসাদ-পরবর্তী সিরিয়াতেও শান্তি এখনও বহুদূর।
