BCB | বিসিবির নাটকীয় ‘ইউ-টার্ন’: ক্ষোভে ফুঁসছে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা!

BCB | বিসিবির নাটকীয় ‘ইউ-টার্ন’: ক্ষোভে ফুঁসছে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা!

শিক্ষা
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ব্যর্থতার রেশ কাটতে না কাটতেই বাংলাদেশের ক্রিকেটে শুরু হয়েছে নতুন অস্থিরতা। মাঠের খেলা ছাপিয়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-এর অন্দরমহলের রাজনীতি। ক্রিকেটারদের প্রবল আপত্তির মুখে যে নাজমুল ইসলামকে মাত্র কদিন আগেই সব পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তাকেই নাটকীয়ভাবে সসম্মানে ফিরিয়ে এনেছে বোর্ড। বিসিবির এই ‘ইউ-টার্ন’ বা ভোলবদলে ক্রিকেটারদের মধ্যে তৈরি হয়েছে চরম আতঙ্ক ও অবিশ্বাস।

বিশ্বাসের ফাটল ও ক্রিকেটারদের অসহায়ত্ব
মাত্র সপ্তাহ দুয়েক আগে ক্রিকেটারদের কঠোর আন্দোলনের মুখে বিসিবি পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল। কিন্তু সেই স্বস্তি ছিল ক্ষণস্থায়ী। ‘ডেলি স্টার’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাজমুল ইসলামকে অর্থ কমিটির প্রধান সহ তার পুরনো সব পদে পুনর্বহাল করার সিদ্ধান্তে ক্রিকেটাররা নিজেদের প্রতারিত মনে করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্যেষ্ঠ ক্রিকেটার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন,“আপনারা বুঝতেই পারছেন এখানে কী কী হচ্ছে। আমাদের আর কিছু বলার নেই, শুধু দেশের ক্রিকেটকে বাঁচান।”বোর্ডের এই সিদ্ধান্তে স্পষ্ট যে, ক্রিকেটার এবং প্রশাসনের মধ্যে বিশ্বাসের সুতোটি এখন পুরোপুরি ছিঁড়ে গেছে।

বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু: কেন নাজমুলের উপর ক্ষুব্ধ ক্রিকেটাররা?
নাজমুল ইসলামের সঙ্গে ক্রিকেটারদের দ্বন্দ্বের ইতিহাস বেশ পুরনো ও তিক্ত। মূলত দুটি বড় ঘটনা এই আগুনকে উস্কে দিয়েছিল:
১. তামিম ইকবাল প্রসঙ্গ: আইপিএল ও বিশ্বকাপ ইস্যুর মাঝেই প্রাক্তন অধিনায়ক তামিম ইকবালকে ‘ভারতের দালাল’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন নাজমুল, যা ছিল নজিরবিহীন। ২. অপমানজনক মন্তব্য: বিশ্বকাপে ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স ও আর্থিক সুবিধা নিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘‘ওরা গিয়ে কিছুই করতে পারে না। তা-ও আমরা ওদের জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করি। আমরা কি ওদের কাছে টাকা ফেরত চাই?’’

নাজমুলের এই মন্তব্যের পরই নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাস এবং রিশাদ হোসেনরা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। ক্রিকেটারদের সংগঠন ‘কোয়াব’ এমনকি বিপিএল সহ সব ধরনের ক্রিকেট বর্জনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছিল।
বিপিএল বাঁচাতে ‘আইওয়াশ’?

প্রশ্ন উঠছে, গত ১৫ জানুয়ারি বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম যে “প্রতিষ্ঠানের সর্বোত্তম স্বার্থে” নাজমুলকে সরানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন, তা কি ছিল শুধুই লোক দেখানো? ক্রিকেট বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বিপিএল টুর্নামেন্টটি নির্বিঘ্নে শেষ করতেই সাময়িকভাবে ক্রিকেটারদের দাবি মেনে নেওয়ার অভিনয় করেছিল বোর্ড।

শনিবারের বোর্ড সভায় মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন যখন নাজমুলকে ফিরিয়ে আনার খবর নিশ্চিত করেন, তখন কার্যত প্রমাণিত হয় যে, বিপিএল শেষ হওয়ামাত্রই বোর্ড তার পুরনো অবস্থানে ফিরে গেছে।

এক নজরে ঘটনাপ্রবাহ
বিশ্বকাপের ভরাডুবির পর যখন প্রয়োজন ছিল দলের মনোবল চাঙ্গা করা, তখন বোর্ডের এমন দ্বিমুখী আচরণ বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎকে আরও গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *