Prashanta Barman | বহালতবিয়তে ঘুরছেন প্রশান্ত, প্রহসনে পরিণত পুলিশের ভূমিকা

Prashanta Barman | বহালতবিয়তে ঘুরছেন প্রশান্ত, প্রহসনে পরিণত পুলিশের ভূমিকা

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


শুভঙ্কর চক্রবর্তী

যাকে ধরতে সিট, এসটিএফ আর ফরেন্সিক দল যৌথ অভিযান শুরু করেছে, চালাচ্ছে চিরুনিতল্লাশি, তিনি হাফপ্যান্ট আর লাল স্যান্ডো গেঞ্জি গায়ে দিব্যি বাজারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা খুনের (Swapan Kamilya Homicide Case) মূল অভিযুক্ত, রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মনকে (Prashanta Barman) গ্রেপ্তারের লোকদেখানো চেষ্টা নিয়ে পুলিশের ভূমিকা এবার রীতিমতো প্রহসনে পরিণত হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Courtroom) ও হাইকোর্টের কড়া নির্দেশের পর যখন নিউটাউনের ফ্ল্যাটে তদন্তকারীরা উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার করে প্রমাণ খুঁজছেন, তখন কোচবিহারের বাণেশ্বর বাজারে খোশমেজাজে ঘুরতে দেখা গেল প্রশান্তকে। যা নিয়ে হইচই পড়েছে এলাকায়।

প্রশান্তর আদি বাড়ি কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার সীমান্তের বোকালিরমঠ এলাকায়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই সেখানে তাঁর অবাধ বিচরণ চোখে পড়েছে স্থানীয়দের। তাঁরা জানিয়েছেন, সকালে একটি বাইকের পেছনে চেপে বাণেশ্বর বাজারে আসেন প্রশান্ত। পরনে ছিল লাল রঙের স্যান্ডো গেঞ্জি ও হাফপ্যান্ট। বাণেশ্বর শিব মন্দির সংলগ্ন কয়েকটি দোকানেও যান। বেশ কিছুক্ষণ সময় বাজারে ছিলেন প্রশান্ত। সন্ধ্যায় বাজারের আরেকটি দোকানে তাঁকে দেখা যায়। শুক্রবারও বোকালিরমঠ এলাকায় বাইক নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন তিনি। আশ্চর্যের বিষয় হল, এতসবের পরেও এক সঙ্গীকে নিয়ে জমি কেনার জন্য আশপাশের গ্রামে ঘুরে বেড়াচ্ছেন ওই ফেরার আধিকারিক। স্থানীয় সূত্রের খবর, বাণেশ্বর এবং খোলটা এলাকায় কয়েকজনের সঙ্গে জমি নিয়ে দামদরও করেছেন প্রশান্ত। কিছুদিন আগেও খোলটা এলাকায় জমি কিনেছিলেন তিনি। সবমিলিয়ে প্রশান্তকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে পুলিশ যে দাবি করছে তা নিয়ে বাণেশ্বর এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে হাসাহাসি শুরু হয়েছে।

বাণেশ্বর বাজারে শিব মন্দির লাগোয়া একটি দোকানের মালিকের কথা, ‘বাজারের সকলেই প্রশান্তকে দেখেছে। দু’দিন থেকে ও দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে। অথচ সংবাদমাধ্যমে আমরা দেখছি ওকে নাকি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পুলিশ তো ছেলেখেলা শুরু করেছে।’ আর এক ব্যবসায়ীর বক্তব্য, ‘বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে আটটা থেকে ন’টা পর্যন্ত প্রশান্ত বাজারেই ছিল। মাছও কিনেছে। সন্ধ্যাবেলাতেও ওকে কয়েকজন দেখেছে।’ শুক্রবার বোকালিরমঠ এলাকায় কয়েকজনের সঙ্গে আড্ডা দিতে দেখা গিয়েছে প্রশান্তকে। স্থানীয় এক তরুণ বলেন, ‘গত এক মাসে বেশ কয়েকবার প্রশান্ত বোকালিরমঠে এসেছেন। শুক্রবার সকালে একজনের বাইকের পেছনে বসে তিনি গ্রামেও ঘুরে বেড়িয়েছেন। জমি কিনবেন বলে দরদামও করেছেন।’ বৃহস্পতিবার খোল্টা এলাকাতেও প্রশান্তকে দেখেছেন স্থানীয়রা। সেখানেও একজনের সঙ্গে জমি কেনাবেচা নিয়ে প্রশান্ত আলোচনা করেছেন। খোল্টা লাগোয়া আলিপুরদুয়ারের বীরপাড়ার এক ব্যবসায়ীর কথায়, ‘প্রশান্তকে তপসিখাতার রাস্তায় বাইক নিয়ে যেতে দেখেছেন অনেকেই। একজন ছবি তুলতে গেলে তাকে ধমকও দেন তিনি।’

কয়েকদিন আগেই শিলিগুড়ি থানার ঢিলছোড়া দূরত্বে এসএফ রোডে দুই সঙ্গীকে নিয়ে গাড়িতে চড়ে ঘুরে বেড়াতে দেখা গিয়েছিল প্রশান্তকে। সবাই যখন প্রশান্তকে দেখছেন তখন পুলিশের খাতায় তিনি বেপাত্তা। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, বিধাননগর পুলিশের ডিসি ডিডি-র নেতৃত্বে এসপি ডিডি ও আইসি সাইবারের মতো বাঘা বাঘা অফিসারদের নিয়ে গড়া ছয় সদস্যের বিশেষ দল তাহলে করছেটা কী? পুলিশের কোনও আধিকারিক অবশ্য এসব নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি। প্রশান্তর নাম শুনেই ফোন কেটে দিয়েছেন অনেকেই।

আইনজীবীরাও পুলিশের ভূমিকায় বিস্মিত। বিশিষ্ট আইনজীবী নারায়ণ দেবনাথের বক্তব্য, ‘এত বড় অপহরণ ও খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হওয়া সত্ত্বেও প্রভাবশালী এই আমলার বিরুদ্ধে এখনও কোনও লুক আউট নোটিশ জারি কেন হচ্ছে না তা আমাদের বোধগম্য হচ্ছে না। আইন মেনে ফেরার আসামী প্রশান্তর বিপুল সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়াও পুলিশ কেন করছে না সেটাও আমরা বুঝতে পারছি না। এসব না করলে প্রশান্তকে ধরার চেষ্টায় পুলিশের খামতি থেকেই যাচ্ছে।’

ফরেন্সিক বা এসটিএফের তৎপরতা কেবলই মুখরক্ষার জন্য। এমনটাই অভিযোগ করছেন খুন হওয়া স্বপন কামিল্যার শ্যালক দেবাশিস কামিল্যা। তিনি বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট বুঝতে পারছি প্রশান্ত বর্মন এখনও প্রভাবশালীদের অদৃশ্য ছত্রছায়ায় সম্পূর্ণ নিরাপদেই রয়েছেন। মাঝেমধ্যে পুলিশ যা করছে সবটাই লোকদেখানো। এসব করে প্রশান্তকে আরও সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। এখন পুলিশের ওপর ভরসা করা খুব মুশকিল। তাই প্রচণ্ড চিন্তা ও ভয়ে আছি।’ যেভাবে ডোন্ট কেয়ার মনোভাব নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন প্রশান্ত তা দেবাশিসের আশঙ্কাকেই সত্যি করে তুলছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *