বর্ধমান: বইয়ের পাতার গণ্ডি পেরিয়ে প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে খুদে পড়ুয়াদের কাছে শিক্ষাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছেন বর্ধমানের শিক্ষক পলাশ চৌধুরী। তাঁর উদ্ভাবনী শিক্ষাদান পদ্ধতি এবং পড়ুয়াদের পুষ্টি নিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগের স্বীকৃতি মিলল এবার জাতীয় স্তরে। জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার ২০২৬-এর জন্য মনোনীত হয়েছেন বর্ধমান (Bardhaman) শহরের শ্রীরামকৃষ্ণ সারদা বিদ্যাপীঠ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পলাশ চৌধুরী।
এবছর পশ্চিমবঙ্গ থেকে মোট দু’জন শিক্ষক (Instructor) জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন। প্রায় আট বছর পর সেই তালিকায় বর্ধমানের কোনও শিক্ষকের নাম উঠে আসায় উচ্ছ্বসিত স্কুলের পড়ুয়া, অভিভাবক এবং শিক্ষক-শিক্ষিকারা। এর আগে ২০১৮ সালে বর্ধমানের কাঞ্চননগর ডি এন দাস হাইস্কুলের শিক্ষক সুভাষচন্দ্র দত্ত জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার পেয়েছিলেন। দীর্ঘ বিরতির পর ফের বর্ধমানের কোনও শিক্ষক জাতীয় পুরস্কারের দৌড়ে জায়গা করে নেওয়ায় শিক্ষামহলেও তৈরি হয়েছে আগ্রহ।
পলাশ চৌধুরীর শিক্ষাদর্শের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, শুধুমাত্র পাঠ্যবইয়ের মধ্যে পড়াশোনাকে সীমাবদ্ধ না রাখা। শ্রেণিকক্ষে পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে প্রযুক্তিকে যুক্ত করে পড়ুয়াদের বিষয় বুঝতে সাহায্য করেন তিনি। ডিজিটাল ছবি, লেখা এবং ভার্চুয়াল উপস্থাপনার মাধ্যমে কঠিন বিষয়গুলিকে সহজ করে তোলার চেষ্টা করেন তিনি। শুধু তাই নয়, মহাকাশ থেকে মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ—এমন নানা বিষয় ভার্চুয়াল পরিবেশে পড়ুয়াদের সামনে তুলে ধরার ব্যবস্থাও করেছেন স্কুলে। শিক্ষকের দাবি, এই পদ্ধতিতে পড়াশোনার প্রতি খুদে পড়ুয়াদের আগ্রহ যেমন বাড়ছে, তেমনই তৈরি হচ্ছে বিষয় জানার কৌতূহলও।
শুধু শ্রেণিকক্ষের পাঠদান নয়, পড়ুয়াদের পুষ্টির বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিয়েছেন পলাশ চৌধুরী। শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশে পড়াশোনার পাশাপাশি সুস্বাস্থ্য ও পুষ্টির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তাঁর বিভিন্ন উদ্যোগও প্রশংসা পেয়েছে।
জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারের (Award) জন্য মনোনয়নকে অবশ্য একার সাফল্য হিসেবে দেখতে নারাজ পলাশ চৌধুরী। তাঁর মতে, এই স্বীকৃতির পিছনে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী, পড়ুয়া, অভিভাবক এবং প্রশাসনের সম্মিলিত অবদান রয়েছে। জাতীয় পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হওয়াকেই তিনি বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন। তাঁর কথায়, এই মনোনয়নের ফলে শ্রীরামকৃষ্ণ সারদা বিদ্যাপীঠ, বর্ধমান এবং গোটা জেলার পরিচিতি জাতীয় স্তরে পৌঁছেছে—এটাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় সম্মানের।

