Bardhaman | পরাধীন ভারতে জন্ম, স্বাধীন বাংলায় বঞ্চনা! ১০৪ বছরেও বার্ধক্য ভাতার আশায় দিন গুনছেন জামালপুরের বৃদ্ধ

Bardhaman | পরাধীন ভারতে জন্ম, স্বাধীন বাংলায় বঞ্চনা! ১০৪ বছরেও বার্ধক্য ভাতার আশায় দিন গুনছেন জামালপুরের বৃদ্ধ

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: বয়স ১০৩ পেরিয়ে ১০৪-এ পা দিয়েছে। চোখে ঝাপসা দেখেন, গলায় বার্ধক্যের কম্পন। কিন্তু পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুর ১ নম্বর ব্লকের বত্রিশবিঘা গ্রামের শেখ ইব্রাহিমের বড় আক্ষেপ— জীবনের সায়াহ্নে এসেও বাংলার ‘উন্নয়ন প্রকল্পে’র সুবিধা তাঁর দরজায় পৌঁছল না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধের ‘বার্ধক্য ভাতা’ পেতে দু-দুবার আবেদন করেও ব্যর্থ হয়েছেন এই বৃদ্ধ।

আঙুলের ছাপ নাকি ব্যাঙ্কিং জটিলতা?
শেখ ইব্রাহিমের দাবি, প্রশাসনের দুয়ারে ঘুরে তাঁকে শুনতে হয়েছে যে, তাঁর হাতের বুড়ো আঙুলের ছাপ (Finger Print) উঠছে না। এই ‘অজুহাতেই’ থমকে আছে তাঁর ভাতা। অন্যদিকে, জামালপুরের বিডিও পার্থসারথী দে এক অদ্ভুত তথ্যের অবতারণা করেছেন। তিনি জানান, বার্ধক্য ভাতার আবেদনের জন্য আঙুলের ছাপের প্রয়োজনই হয় না; বয়স ও ব্যাঙ্কের নথি থাকলেই চলে। তাঁর অনুমান, ভাতা অনুমোদন হলেও ব্যাঙ্কিং কোনো সমস্যায় টাকা পাচ্ছেন না বৃদ্ধ।

ব্যাঙ্কের বয়ানে নতুন মোড়
জামালপুর ১ নম্বর পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান সাহাবুদ্দিন মণ্ডল দাবি করেছেন, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট না থাকার কারণেই পোর্টালে ইব্রাহিম সাহেবের নাম তোলা যায়নি। উপ-প্রধানের এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বৃদ্ধ শেখ ইব্রাহিমের দুই ছেলে শেখ রায়হান উদ্দিন ও শেখ বাগবুল ইসলাম জানান,, তাঁদের বাবার হাতের আঙুলের ছাপ(Finger Print) উঠছে না বলে গ্রামে হওয়া শিবিরে তাঁদের বলা হয়েছিল। আঙুলের ছাপ না ওঠার কারণে বাবার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা যাচ্ছে না বলে নাকি তাঁদের জানিয়েও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এসবিআই (SBI)-এর শুঁড়েকালনা ব্রাঞ্চের ম্যানেজার কৃষ্ণ নন্দন কুমার পোদ্দার এই যুক্তি নসাৎ করে দিয়েছেন। তিনি সাফ জানান:
• অ্যাকাউন্ট খুলতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট বাধ্যতামূলক নয়।
• সাম্প্রতিক ছবি, আধার ও ভোটার কার্ড দিলেই অ্যাকাউন্ট খোলা সম্ভব।
• শেখ ইব্রাহিম বাবু চাইলে ব্যাঙ্ক তাঁর অ্যাকাউন্ট খুলে দিতে সবরকম সহযোগিতা করবে।

ভোটের মুখে রাজনীতির ‘অস্ত্র’
সামনেই ভোট, আর তার আগে শতায়ু বৃদ্ধের এই বঞ্চনা বিরোধীদের হাতে বড় হাতিয়ার তুলে দিয়েছে। বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্রের তোপ, ‘ভোটের মুখে সারা বাংলা জুড়ে উন্নয়ন পাঁচালির গাড়ি ঘোরাচ্ছে তৃণমূল।কিন্তু বাস্তবে বাংলার মানুষের কী উন্নয়ন হয়েছে সেটা ১০৪ বছর বয়সী জামালপুরের প্রবীণ বাসিন্দা শেখ ইব্রাহিমের বার্ধক্য ভাতা না পাওয়ার ঘটনাই প্রমাণ করে দিচ্ছে। বিডিও-র আশ্বাসের পর কি ইব্রাহিম সাহেবের নাম শেষ পর্যন্ত সরকারি পোর্টালে উঠবে? নাকি ‘ভবিতব্য’ মেনে ১০৪ বছরের লড়াই শেষ হবে বঞ্চনা নিয়েই? এখন এটাই দেখার।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *