Bardhaman | ঘর মোছা হাতেই এখন মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব! পরিচারিকা থেকে মন্ত্রী হওয়ার অদম্য লড়াই কলিতা মাজির

Bardhaman | ঘর মোছা হাতেই এখন মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব! পরিচারিকা থেকে মন্ত্রী হওয়ার অদম্য লড়াই কলিতা মাজির

খেলাধুলা/SPORTS
Spread the love


প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: অভাবের সংসার, মানুষের বাড়ি পরিচারিকার কাজ— এভাবেই কাটছিল পূর্ব বর্ধমানের (Bardhaman) আউশগ্রামের কলিতা মাজির জীবন। কিন্তু অদৃষ্টের অদৃশ্য অঙ্গুলিহেলন আর অদম্য জেদ তাঁকে পৌঁছে দিল ক্ষমতার অলিন্দে। সোমবার রাজ্যের মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন আউশগ্রামের (Aushgram) এই ‘ঘরের মেয়ে’। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নতুন মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে জায়গা পেয়ে কলিতা মাজি এখন রাজ্য রাজনীতির নতুন চর্চার কেন্দ্রবিন্দু।

গুসকরা পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝপুকুর পাড়ার বাসিন্দা কলিতা মাজি। পরিচারিকার কাজ করে সংসার চালানো এই সংগ্রামী নারী কেবল নিজের জন্য নয়, লড়েছেন সাধারণ মানুষের জন্য। ২০২১-এ ব্যর্থ হলেও, হার মানেননি তিনি। এবারের নির্বাচনে তৃণমূলের শ্যামাপ্রসন্ন লোহারকে ১২,৫৩৫ ভোটে পরাজিত করে আউশগ্রাম বিধানসভা থেকে জয়ী হয়ে তিনি (BJP) প্রমাণ করেছেন, ইচ্ছাশক্তি থাকলে কোনো বাধাই বড় নয়।

মন্ত্রী হওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় কলিতা বলেন, “আমি গরিব পরিবারের একজন বধূ। তাই গরিব মানুষের কষ্ট আমি বুঝি। বিধায়ক হয়েছি, এখন মন্ত্রীও হয়েছি, কিন্তু আমি সাধারণ মানুষ হিসেবেই থাকতে চাই। আমি আতিশয্য চাই না। আউশগ্রামের মানুষের জন্য কাজ করতে চাই এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহজির মুখ উজ্জ্বল করতে চাই।”

কলিতার এই উত্থানে গর্বিত তাঁর প্রাক্তন কর্মস্থলের মানুষজনও। ২০১১ সাল থেকে যে পাত্র পরিবারে তিনি পরিচারিকার কাজ করতেন, সেই পরিবারের কর্তা প্লাটিলাল পাত্র ও কৃষ্ণা পাত্র আবেগে আপ্লুত। তাঁরা জানান, কলিতা তাঁদের কাছে কেবল কাজের লোক নন, বরং মেয়ের মতো। তাঁর মন্ত্রী হওয়ায় তাঁরা অত্যন্ত খুশি এবং আশাবাদী যে, কলিতা মানুষের পাশে থেকেই কাজ করবেন।

উল্লেখ্য, এবারের মন্ত্রিসভায় ১৩ জন পূর্ণমন্ত্রী, ৫ জন স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী এবং ১৯ জন প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে কলিতা মাজি এক অনন্য নাম। আউশগ্রাম থেকে প্রথমবারের মতো কোনো বিধায়ক রাজ্যের মন্ত্রীসভায় স্থান পাওয়ায় খুশির জোয়ার বইছে এলাকায়। মাটি থেকে উঠে আসা এক সাধারণ নারীর এই লড়াইয়ের কাহিনি আজ জেলার গণ্ডি ছাড়িয়ে অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে গোটা পশ্চিমবঙ্গে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *