প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান: স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প (Swasthya Sathi) নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন বর্ধমানের (Bardhaman) বিশিষ্ট অর্থোপেডিক চিকিৎসক দেবব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Debabrata Banerjee)। তাঁর দাবি, স্বাস্থ্যসাথীর সঙ্গে যুক্ত একটি টিমকে প্রতি মাসে নাকি ৫ থেকে ৬ লক্ষ টাকা ‘কাটমানি’ দিতে হত। কয়েক মাস সেই টাকা দেওয়ার পর সেটা তিনি বন্ধ করে দিতেই, তাঁর হাসপাতালের প্রায় দেড় কোটি টাকার বিল আটকে দেওয়া হয়। এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
বুধবার বিকেলে বর্ধমানে একটি সংগঠনের অফিস উদ্বোধনে এসে প্রকাশ্যে এমনই অভিযোগ করেন বর্ধমান মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন অর্থোপেডিক্স বিভাগের অধ্যাপক তথা বর্তমানে কল্যাণী ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস (কিমস) হাসপাতালের অধিকর্তা দেবব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
তিনি আরও বলেন, “কলকাতা থেকে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের একটি টিম নির্দিষ্ট সময়ে আমার কাছে আসত। তাদের দাবি ছিল প্রতি মাসে ৫-৬ লক্ষ টাকা দিতে হবে। প্রথম দিকে ২-৩ মাস আমি নিজের থেকেই সেই টাকা দিয়েছিলাম। পরে আমি ওই টাকা দেওয়া বন্ধ করে দি। তারপর থেকেই আমাদের হাসপাতালের বিভিন্ন অপারেশন ও চিকিৎসার প্রায় দেড় কোটি টাকার বিল বকেয়া পড়ে রয়েছে।”
চিকিৎসকের আরও অভিযোগ, বারবার তাগাদা দেওয়ার পরেও সেই টাকা তিনি পাননি। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। দেবব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এও দাবি করেন, তাঁকে নাকি বলা হয়েছিল এই টাকা উপরতলার এমন জায়গায় পৌঁছায়, যা তিনি কল্পনাও করতে পারবেন না। সেই কারণেই নিয়মিত টাকা দেওয়ার জন্য চাপ তৈরি করা হত বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তবে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ঘটনায় বর্ধমানের কোনও স্থানীয় নেতা বা তৎকালীন শাসকদলের বিধায়কের ভূমিকা ছিল না। বৃহস্পতিবার নিজের অফিসে বসে এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কারা টাকা নিতে আসত, সেই নাম এখন মনে নেই। তবে সবাই কলকাতা থেকেই আসত। স্থানীয় কোনও নেতা বা পূর্বতন বিধায়ক আমার কাছে টাকা চাননি।”
