প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: সালিশি সভায় ডেকে নিয়ে গিয়ে ব্যাপক মারধোর করে এক তৃণমূল (TMC) নেতাকে খুনের (Homicide) অভিযোগ উঠল ‘নব্য বিজেপি’ কর্মীদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পূর্ব বর্ধমানের (Bardhaman) মঙ্গলকোটের পুরাতনহাট এলাকায়৷ নিহত তৃণমূল নেতার নাম মিহির ঘোষ (৬২)। তিনি মঙ্গলকোট অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন। এই খুনের ঘটনায় পাঁচজনের নামে মঙ্গলকোট থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে নিহতের পরিবার। তদন্তে নেমে পুলিশ অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, পেশায় কৃষক মিহিরবাবুর বাড়ি পুরাতনহাট গ্রামে। বাড়িতে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী, দুই ছেলে ও পুত্রবধূ। দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। জানা গিয়েছে, গ্রামের বারোয়ারি পুজো কমিটির আর্থিক হিসাব পেশ নিয়ে গত ৩০ মে গ্রামে একটি সালিশী সভা ডাকা হয়েছিল। পুরাতনহাট ধর্মরাজতলায় ওই সালিশী সভা বসে।
ঘটনা প্রসঙ্গে মৃতের স্ত্রী তাপসি ঘোষ অভিযোগ করে বলেন, “সালিশি সভায় কথাবার্তার মাঝে নব্য বিজেপি কর্মীরা আমার সামনেই শাবল হাতে আমার স্বামী মিহির ঘোষের উপর চড়াও হয়ে বেধড়ক মারধোর করে। আমার স্বামী রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়ে। তা শুনে আমাদের বাড়ির সকলে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। একই সময়ে পুলিশও ঘটনাস্থলে এসে পৌছায়। আমার স্বামীকে উদ্ধার করে মঙ্গলকোট হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করা হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা আমার স্বামীকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করে। কিন্তু সেখানেও শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাঁকে কলকাতার পি জি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পি জি হাসপাপালে নিয়ে যাওয়া হলেও বেড না মেলায় তাকে বর্ধমানে ফিরিয়ে এনে চিকিৎসার জন্য বেসরকারী একটি নার্সিংহমে ভর্তি করা হয়। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। নার্সিংহোমে রবিবার সকালে আমার স্বামী মারা যান।“
মৃতের ছেলে প্রবীর ঘোষও একই অভিযোগ করেছেন। নিহতের স্ত্রী অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক সাজার দাবি করেছেন। এদিকে তৃণমূল নেতা মিহির ঘোষের মৃত্যুর খবর এদিন পুরাতনহাট গ্রামে পৌছাতেই উত্তেজনার পারদ চড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় মোতায়েন করা হয় পুলিশ। পরিবারের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে পুলিশ তদন্তে নেমেছে। তবে রবিবার রাত পর্যন্ত কোনও অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
