উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ শুভ ধনতেরাসে ধনবর্ষণ। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে রবিবার মথুরার বাঁকেবিহারী(Banke Bihari) মন্দিরের তোষাখানায় সিল করা কক্ষগুলিতে সমীক্ষা চালিয়ে একটি কক্ষ থেকে মিলল সোনা ও রুপোর বার, দামি পাথর সহ বহু মূল্যবান সামগ্রী।
মন্দিরের পুরোহিতরা জানিয়েছেন, একটি সিল করা লম্বা বাক্স খুলে যে সমস্ত জিনিস পাওয়া গিয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে গুলাল(রং)লাগানো ৩-৪ ফুট লম্বা একটি সোনার বার, তিনটি রুপোর বাট, লাল ও সবুজ রঙের দামি রত্নরাজি, প্রাচীন মুদ্রা ও বিভিন্ন ধাতুর বাসন। অনুমান করা হয়, ভগবান কৃষ্ণ তথা ঠাকুরজি এই সমস্ত বাসনপত্র ব্যবহার করতেন। বহু বাক্স এখনও খোলা সম্ভব হয়নি। যদিও স্থানীয় প্রশাসন উদ্ধার হওয়া সামগ্রীগুলিকে সোনা কিংবা রুপো বলে উল্লেখ না করে হলুদ ধাতু (সোনার বদলে) ও সাদা ধাতু (রুপোর বদলে) হিসেবে নথিবদ্ধ করেছে। ময়ূর-আকৃতির পান্নার হার বা রত্নখচিত কলসের মতো বিরল বস্তু খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাতে পুরোহিতরা কিছুটা হতাশ হয়েছেন।
সূত্রের খবর, যে বিষয়টি ভাবাচ্ছে তা হল তোষাখানায় বহু সম্পত্তির নথি মেলেনি। ইতিহাসবিদদের দাবি, মন্দিরটি ১৯ শতকের। বহু রাজপরিবারের পক্ষ থেকে এখানে বহু মূল্যবান সামগ্রী দান করা হয়েছে। সেই সমস্ত উপহারের নথি থাকার কথা।
তোষাখানা ৫৪ বছর ধরে বন্ধ ছিল। শীর্ষ আদালত নিযুক্ত কমিটির নির্দেশে তা খোলা হয়েছে। কমিটির সদস্য সংখ্যা ১২। শীর্ষে রয়েছেন এলাহাবাদ হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অশোক কুমার।
কমিটির অন্যতম সদস্য দীনেশ গোস্বামী জানিয়েছেন, ‘যে সমস্ত জিনিস পাওয়া গিয়েছে বলে জানানো হচ্ছে, তা সবই ঠাকুরজির ব্যবহারের উদ্দেশে দান করা হয়েছিল। মন্দিরে যে নগদ অর্থ উৎসর্গ করা হয় তা ব্যাংকে জমা থাকে।’ দীনেশ গোস্বামী এও জানিয়েছেন, তোষাখানায় পাওয়া জিনিসপত্রের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটির ভিডিও-ও করা হয়েছে।
মন্দিরের গর্ভগৃহ সংলগ্ন তোষাখানাটি শেষ খোলা হয় ১৯৭১ সালে।
