উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বৃহস্পতিবার রাত থেকে উত্তাল বাংলাদেশ (Bangladesh violence)। গুলিতে গুরুতর জখম হয়ে সিঙ্গাপুরের এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জুলাই আন্দোলনের অন্যতম মুখ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই দেশজুড়ে অশান্তি ছড়ায়। অভিযোগ, এই ঘটনার পর ইসলামী উগ্রপন্থীদের তাণ্ডব শুরু হয় বিভিন্ন জায়গায়।
প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের মতো প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমের অফিসে ভাঙচুর চালানো হয়। পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয় ময়মনসিংহের ভালুকায়। সেখানে বৃহস্পতিবার রাতে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ তুলে হিন্দু যুবক দীপুচন্দ্র দাসকে নির্মমভাবে পিটিয়ে-পুড়িয়ে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ (Hindu persecution in Bangladesh)। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ঘটনার পর দুষ্কৃতীরা প্রকাশ্যে উল্লাসে মেতে ওঠে। এই সব ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা কার্যত নীরব বলেই অভিযোগ উঠছে।
এই পরিস্থিতিতে ভারতের বিরুদ্ধে সমাজমাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিতে শুরু করেছে বাংলাদেশের নাগরিকদের একাংশ (Bangladesh social media hate)। একের পর এক পোস্টে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার হুমকি, ভারতকে কটাক্ষ করে তীব্র ভাষায় আক্রমণ, এমনকি বাংলাদেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য ভারতকে দায়ী করে বিদ্বেষমূলক মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ছে। সমাজমাধ্যমের দেওয়াল জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে অপতথ্য ও ঘৃণাভাষণ।
ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকেই মৌলবাদী শক্তিগুলি এই ঘটনায় ভারতের যোগ খোঁজার চেষ্টা শুরু করে। প্রকাশ্যে বিবৃতি দিয়ে একাধিক রাজনৈতিক গোষ্ঠী ভারতকে হুঁশিয়ারি দেয়। চট্টগ্রামে ভারতের হাইকমিশন লক্ষ্য করে হামলার ঘটনাও ঘটে। হাসিনা-পরবর্তী বাংলাদেশে যেকোনও অস্থিরতার জন্য ভারতকে দায়ী করার প্রবণতা যেন ‘অটোমেটিক চয়েস’-এ পরিণত হয়েছে বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
যাঁরা এই স্রোতের বিরোধিতা করতে চান, তাঁরা আতঙ্কে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। ফলে ভারতবিরোধী এই মনোভাব ক্রমশ আরও বিস্তার লাভ করছে (India Bangladesh relations)। জামাতে ইসলামি, হিজবুত তাহরির ও হেফাজতে ইসলামের মতো উগ্র মৌলবাদী সংগঠনগুলির মদতেই এই প্রবণতা আরও পুষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ।
সমালোচকদের মতে, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের ভারতবিরোধী অবস্থানও সমাজমাধ্যমে ঘৃণা ছড়াতে সহায়ক হয়েছে। এর আগেও চিনের মন জয় করতে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ‘সেভেন সিস্টার্স’ রাজ্যগুলিকে মূল ভূখণ্ড থেকে আলাদা করার মতো বিতর্কিত মন্তব্য শোনা গিয়েছে ইউনূসের গলায়। পাশাপাশি, পাকিস্তানের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধির ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। এই সব মিলিয়ে বাংলাদেশে ভারতের বিরোধিতা এবং পাকিস্তান-চিন ঘনিষ্ঠতার সুর সমাজমাধ্যমে ক্রমেই আরও তীব্র হয়ে উঠছে, যা গোটা অঞ্চলের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নতুন করে উদ্বেগের মুখে ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
